মহেশখালীতে করোনা পরীক্ষায় অনীহা

ঘরে ঘরে জ্বর-সর্দি-কাশি করোনা ছড়ানোর ঝুঁকি

আপডেট : ২৯ জানুয়ারি ২০২২, ১২:১৩ এএম

মহেশখালীর ঘরে ঘরে এখন জ্বর-সর্দি-কাশিতে আক্রান্ত হাজারও মানুষ। আবহাওয়ার পারদ নামতেই জ্বর, গলাব্যথা, মাথাব্যথায় আক্রান্তের হার বেড়েছে। এ ধরনের রোগীদের করোনা টেস্ট করালে যদি রিপোর্ট পজিটিভ আসে এই ভয়ে টেস্ট করাতে যাচ্ছেন না অধিকাংশ মানুষ। এতে উপসর্গ থাকলেও শনাক্ত না হওয়ায় করোনা ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়ছে।

উপজেলার গোরকঘাটা, কুতুবজোম, হোয়ানক, কালারমার ছড়া, মাতারবাড়ী, শাপলাপুরসহ বেশ কিছু এলাকায়  ঘরে ঘরে জ্বর-সর্দিতে আক্রান্তের খোঁজ পাওয়া গেছে। চিকিৎসা নিতে গ্রাম্য ডাক্তার থেকে শুরু করে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রেও রোগীর ভিড় জমছে। কিছু ক্ষেত্রে করোনার পরীক্ষার জন্য স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হচ্ছে। 

শাপলাপুরের বাসিন্দা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তাহমিনা বেগম বলেন, ‘করোনার কারণে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় গ্রামের বাড়িতে এসেছি। এর মধ্যেই দুই দিন ধরে জ্বর, কাশিতে ভুগছি। প্রথমে বাবা থেকে শুরু করে পরে মা-বোন, ফুপিসহ বাড়ির ছয়জনের জ্বর। ওষুধ খেয়েও সারছে না।

কালারমার ছড়ার উত্তর নলবিলার এনজিওকর্মী আকলিমা সোলতানা বলেন, ‘বাড়িতে সবার জ্বর। অতিরিক্ত জ্বরের কারণে কাজেও যেতে পারছি না। এলাকার প্রতিটা ঘরে জ্বরের প্রভাব দেখা যাচ্ছে।’

জ্বরে আক্রান্ত তারেক আজিজ নামে গোরকঘাটার এক সংবাদকর্মী বলেন, হঠাৎ করে যেদিকে শুনি সবার জ্বর আর জ্বর।

উত্তর নলবিলা বড়ুয়া বাজারের ফার্মেসির দোকানদার তপন বড়ুয়া জানান, এলাকায় হঠাৎ জ্বরের রোগী বেড়ে গেছে।জ্বরের ওষুধ বিক্রি হচ্ছে অন্য সময়ের চেয়ে বেশি।

মহেশখালীর হাসপাতালের স্বাস্থ্যকর্মী শেখ মোহাম্মদ জানান, ঘরে ঘরে এখন ঠান্ডা-জ্বর-সর্দিতে আক্রান্ত। অনেকের কাশিও রয়েছে। যাদের করোনার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে, তাদের করোনা টেস্ট করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

মহেশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহাফুজুল হক বলেন, মহেশখালী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রেও  প্রতিদিন জ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। যাদের করোনার উপসর্গ দেখা দিচ্ছে, তাদের করোনার টেস্ট করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত