চ্যালেঞ্জার্সের নেতৃত্ব থেকে মেহেদী হাসান মিরাজকে অপসারণ নিয়ে গতকাল দিনভর নাটক হয়েছে চট্টগ্রামে। শনিবার নেতৃত্ব হারানোর পর নাঈম ইসলামের অধিনায়কত্বে সিলেট সানরাইজার্সের বিপক্ষে জয়ী ম্যাচটি খেলেন মিরাজ। তবে রবিবার বিকেলে তিনি স্ত্রী-সন্তানসহ ঢাকায় ফেরার জন্য টিম হোটেল ছেড়ে নিচে নামেন। মিরাজকে তখন বলতে শোনা যায়- ‘আমাদের মালিকপক্ষ খুব ভালো। তারা কোনো কিছুর সঙ্গে জড়িত নয়। তাদের নিয়ে কোনো অভিযোগ নেই। ইয়াসিরই (চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের প্রধান নির্বাহী) মূল কালপ্রিট। ইয়াসির দলে থাকলে আমি খেলব না।’ মিরাজের ফেরার জন্য স্ত্রী-পুত্র হোটেলের সামনে গাড়িতে অপেক্ষায় ছিলেন। একটু পর ফ্র্যাঞ্চাইজির লোক এসে তাদেরও ভেতরে নিয়ে যান। বিকেলে তাদের সাড়ে ৫টায় ফ্লাইট থাকলেও যাননি মিরাজ। রাতে সংবাদ সম্মেলনও করেন তিনি।
এর আগে গতকাল ইয়াসির বলেছিলেন, ইংল্যান্ডে ফিরে যাওয়ার আগে কোচ পল নিক্সনই নাকি বলে গেছেন, ‘চাপমুক্ত’ করতে মিরাজকে যেন অধিনায়কত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। সিলেট সানরাইজার্সের বিপক্ষে ম্যাচে সে কারণেই মিরাজের পরিবর্তে নাঈম ইসলামকে অধিনায়ক করা হয়।
কিন্তু মিরাজের দাবি, ‘নিক্সন ও রকম কিছুই বলেননি। কোচ নাকি বলেছেন, আমি স্বার্থপর ক্রিকেট খেলি। আমাকে যেন অধিনায়কত্ব না দেওয়া হয়। কিন্তু কোচের সঙ্গে আমার আজ (কাল) ৩০ মিনিটের মতো কথা হয়েছে। তিনি বলেছেন, আমি এ রকম কিছু বলিনি। ইয়াসিরের কথা মিথ্যা।’ নেতৃত্বে বদলের প্রক্রিয়ায় আত্মসম্মানে চোট লেগেছে বলে মন্তব্য করেন মিরাজ, ‘অধিনায়কত্ব থেকে আমাকে কেন সরাল, কিছুই বুঝলাম না। দল আমার নেতৃত্বে ভালো ফল পেয়েছে। নিজেও পারফর্ম করেছি। বাকিরাও স্বাচ্ছন্দ্যে আছে, দল খুশি। কোচিং ম্যানেজমেন্ট খুশি। তাহলে কিছু না বলে কেন এই সিদ্ধান্ত? দুদিন পর তো পারফর্ম করলেও আমাকে একাদশে রাখা হবে না। এটা তো স্রেফ অপমান। এখনো আমি জাতীয় দলের ক্রিকেটার। আমাদের নিজেদেরও চ্যালেঞ্জ থাকে। আমাকে সবার সেরা হতে হবে। জাতীয় টি-টোয়েন্টি দলে আবার ফিরতে চাই। সেভাবেই আমার মানসিকতা ঠিক রাখতে হবে। কিন্তু এমন পরিবেশে খেলা চালিয়ে যাওয়া কঠিন।’
ঢাকায় ফিরতে চাওয়ার কারণ হিসেবে পারিবারিক সমস্যার কথাও বলেন মিরাজ। ‘আমার আম্মাও একটু অসুস্থ। আমার সঙ্গে থাকাটাও জরুরি। মাঝখানে উনার অবস্থা অনেক খারাপ হয়ে গিয়েছিল।’ তবে মায়ের অসুস্থতা যে খুব গুরুতর কারণ না, সেটিও পরিষ্কার হয়ে গেছে মিরাজের পরের কথাতেই। ‘মালিককে নিয়ে আমার কোনো অভিযোগ নেই। মালিক অনেক ভালো মানুষ। আমার কাছে মনে হয়েছে সিওও ইয়াসিরের ব্যবহার ভালো লাগেনি, সত্যি কথা যেটা।’
ফ্র্যাঞ্চাইজির আচরণ সম্পর্কে বিসিবির প্রধান নির্বাহীকে ই-মেইলে জানিয়েছেন মিরাজ। শনিবার রাতেই মুঠোফোনে কথা বলেছেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান, বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য সচিব ইসমাইল হায়দার মল্লিক এবং অন্যান্য দলে থাকা জাতীয় দলের বেশ কয়েকজন সিনিয়র ক্রিকেটারের সঙ্গে। ইসমাইল হায়দার মল্লিক গতকাল বলেছেন, ‘মিরাজ যদি ঢাকায় ফিরে আসে, আমরা চেষ্টা করব দুই পক্ষকে নিয়ে বসে বিষয়টি মীমাংসা করতে। একজন খেলোয়াড় টুর্নামেন্টের মাঝপথে দল ছেড়ে বেরিয়ে আসবে, এটা কোনোভাবেই ভালো দেখায় না।’
