শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগের আগ পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত রেখেছে শিক্ষার্থীরা।
আন্দোলনের অংশ হিসেবে সোমবার বিকেল ৫টায় থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের গোল চত্বরের সামনে কিলো রোডের পাশে ‘আলোকচিত্রে এক দফা’ শীর্ষক প্রদর্শনীর আয়োজন করে তারা।
সরেজমিনে দেখা যায়, কিলো রোডের পাশে সবুজ শামিয়ানা টাঙানো। শামিয়ানায় পিন দিয়ে আটকানো প্রায় দেড় শতাধিক ছবি। প্রতিটি ছবিতে ফুটে উঠেছে উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের চিত্র। পুলিশ কর্তৃক শিক্ষার্থীদের নির্দয়ভাবে পেটানোর স্থিরচিত্র। এছাড়া, শিক্ষার্থীদের সাথে শিক্ষক এবং পুলিশের কথোপকথন। বাদ যায়নি স্লোগানে স্লোগানে মুখর ক্যাম্পাসের ছবি। অ্যাম্বুলেন্স দিয়ে শিক্ষার্থীদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া কিংবা অনশনের ফলে অসুস্থ সহযোদ্ধাকে জড়িয়ে ধরে কান্নার স্থিরচিত্র। রয়েছে, উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থানরত পুলিশের সামনে কিছু শিক্ষার্থী ফুল হাতে হাঁটু গেড়ে তাকিয়ে থাকার ছবি।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অন্যতম মুখপাত্র শাহরিয়ার আবেদিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে গত ২ সপ্তাহ ধরে আমরা যে আন্দোলন চালিয়ে আসছি তারই ধারাবাহিকতায় আমাদের আজকের কর্মসূচি ‘আলোকচিত্রে এক দফা’ শীর্ষক প্রদর্শনী। আমরা চেয়েছি, এই প্রদর্শনীতে আমাদের আন্দোলনের যে টাইমলাইন তার পুরোটা তুলে ধরতে।
তিনি বলেন, প্রদর্শনীতে আমরা শিক্ষার্থীদের তোলা আন্দোলনের বিভিন্ন মুহূর্তের ছবি আমাদের দাবির সপক্ষে প্রামাণ্য দলিল হিসেবে প্রদর্শনের ব্যবস্থা করেছি। এখানে গত ১৬ তারিখ উপাচার্যকে আইআইসিটি ভবনে অবরুদ্ধ করার সময় থেকে গত ২৮ তারিখের সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা পর্যন্ত সময়কালের প্রায় দেড় শতাধিক ছবি প্রদর্শিত হচ্ছে। মূলত, অনশন, মিছিল, সভা ও ক্যাম্পাসে অবস্থান কর্মসূচির নানা স্থিরচিত্র দেখানো হয়েছে এতে। এভাবে নানারূপে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে উপাচার্যের পদত্যাগের আগ পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।
এদিকে, আন্দোলন চললেও ক্যাম্পাসের দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। রেজিস্ট্রার দপ্তর থেকে জানা যায়, করোনাকালীন অবস্থার কারণে শিফট করে অর্ধেক জনবলে দাপ্তরিক কার্যক্রম চালানোর জন্য কর্তৃপক্ষের নির্দেশ রয়েছে। এ বিষয়ে বিভাগ ও দপ্তরগুলোতে অর্ধেক জনবলে দাপ্তরিক কার্যক্রম চালানোর জন্য রেজিস্ট্রার দপ্তর থেকে আলাদাভাবে জানানো হয়েছে।
গত ১৬ জানুয়ারি শিক্ষার্থীদের উপর পুলিশি হামলার পর থেকেই ভিসির পদত্যাগের এক দফা আন্দোলন শুরু করে শিক্ষার্থীরা এবং দাবি মানার আশ্বাসের পর থেকে শিক্ষার্থীরা অনশন থেকে সরে আসলেও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের মাধ্যমে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা জানান তারা।
