‘কারিনা সাংঘাতিক পরিবারের মেয়ে’, সাইফকে ভয় দেখাতো অক্ষয়!

আপডেট : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০৭:৫৪ পিএম

কারিনা কাপুর এবং অক্ষয় কুমারের মধ্যে বয়সের পার্থক্য অনেক, প্রায় ১৩ বছর। তবে তা সত্বেও পর্দায় কখনও বেমানান লাগেনি এই জুটিকে। বর্তমানে কারিনার ৪১ এবং অক্ষয় পেরিয়েছেন ৫৪-র চৌকাঠ। দিদি কারিশ্মার ছবির শ্যুটিংয়ের সময় প্রায়ই সেই সেটে হাজির হতেন ছোট্ট কারিনা। সেই সুবাদেই ক্যামেরার সামনে অক্ষয়ের প্রথম দেওয়া শটেরও সাক্ষী ছিলেন কারিনা।

সম্প্রতি, টুইক ইন্ডিয়ার জন্য কারিনার সাক্ষাৎকার নিচ্ছিলেন টুইঙ্কল খান্না। সেখানেই গল্প-আড্ডার ফাঁকে হাসতে হাসতে এই অক্ষয়-ঘরণীকে এই কথা জানান বলিউড ‘বেবো’। বলি-সুন্দরীর কথাতেই আরও জানা যায় অক্ষয়ের এমন অনেক ছবির শ্যুটিং দেখার অভিজ্ঞতা মনে রয়েছে তার যখন তিনি বড়দের কোলে চেপে বসতেন। সোজা কথায়, এতটাই ছোট ছিলেন বেবো।

কারিনার কথায়, ‘দিদি কারিশ্মার ছবির প্রায় সব নায়কের সঙ্গে পর্দায় আমিও রোম্যান্স করেছি। একদিক থেকে দেখতে গেলে ব্যাপারটা বেশ অস্বস্তির। সেটে ক্যামেরার সামনে অক্ষয়ের দেওয়া প্রথম শটও নিজের চোখে দেখেছি আমি। তখন আমি স্কুলে পড়ি। যথেষ্টই ছোট। এরপর দীর্ঘ বছর ধরে ওর ছবির নায়িকাও হয়েছি। সুতরাং, এর থেকেই ভীষণ স্পষ্ট অক্ষয় কী দারুণ অভিনেতা’।

যদিও নিজের স্বামীর প্রশংসা শুনে গলে যাওয়ার পাত্রী নন টুইঙ্কল। কারিনার যুক্তিকে উড়িয়ে দিয়ে অক্ষয়-ঘরণীর মন্তব্য, ‘না, সেরকম কোনও ব্যাপার নয়। বরং এর থেকে বোঝা যায় আমাদের দেশে নায়িকাদের তুলনায় নায়কদের ক্যারিয়ার বেশ অনেকটাই লম্বা’। টুইঙ্কলের কথা শেষ হতে না হতেই করিনা বলে ওঠেন, ‘তবে এই কথাটিকে কিন্তু আমরা ভুল প্রমাণ করছি’।

সায় দেন টুইঙ্কলও, ‘ঠিক। যেভাবে নিজের ২০ বছরের ক্যারিয়ারের পরেও বলিপাড়ার প্রথম সারির নায়িকাদের মধ্যে তুমি এখনও রয়েছ, তার থেকেই স্পষ্ট এখন এই ব্যাপারটিকে তুমি ভুল প্রমাণ করছ’।

শুনে হাসতে হাসতে করিনার জবাব, ‘৭৫ বছর বয়সেও অক্ষয়ের বিপরীতে কাজ করতে পারব আমি। কারণ আমি নিশ্চিত অক্ষয় তখনও অভিনয় চালিয়ে যাবে’।

এদিন কারিনা আরও জানান, সাইফ আলী খানের সঙ্গে প্রেমের সময় নাকি ঝামেলা পাকিয়েছিলেন অক্ষয়। ২০০৭ সালে ‘তাশান’ ছবির শ্যুটিং চলাকালীন পরস্পরের প্রেমে পড়েছিলেন করিনা কাপুর এবং সাইফ আলী খান। এই ছবির শ্যুটিং চলাকালীনই কারিনাকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়েছিলেন সাইফ। এবং তা মঞ্জুরও হয়ে গিয়েছিল। এই দুজন ছাড়াও ছবিতে অন্যতম মুখ্যচরিত্রে ছিলেন অক্ষয় কুমার-ও। মজার কথা, কারিনার প্রতি সাইফের ভাবসাব লক্ষ্য করে অক্ষয় কিন্তু তার বহু বছরের বন্ধুকে বারণ করেছিলেন কোনওরকম বাড়াবাড়ি না করতে। কারণ অক্ষয়ের মতে, করিনার পরিবার অত্যন্ত ‘সাংঘাতিক’।

কারিনা আরও জানান, শ্যুটিংয়ের ফাকে সুযোগ পেলেই সাইফকে আলাদা করে ডেকে নিয়ে গিয়ে কারিনার দিকে না ঝোঁকারই উপদেশ দিতেন খিলাড়ি। তবে সেসব কথায় শেষমেশ আর কানে ঢোকাননি সাইফ। ভাগ্যিস!

টুইঙ্কল কথা প্রসঙ্গে কারিনাকে জিজ্ঞাসা করেন, যখন কারিনা অভিনয়কে পেশা হিসাবে বেছে নিচ্ছিলেন, তখন তার বাড়িতে কোনও সমস্যা হয় কি না? অনেকেই জানেন, কাপুর বাড়িতে মেয়েদের অভিনয় নিয়ে রক্ষণশীলতা আছে।

করিনা জানান, তার দিদি কারিশ্মা যখন সিনেমায় কাজ করবেন বলে সিদ্ধান্ত নেন, তখন তাদের বাবা রণধীর কাপুর কিছুটা অসন্তুষ্ট হন। পরে মেনেও নেন। কারণ তাদের মা ববিতা রীতিমতো পাশে দাঁড়ান। পরে কারিনার ক্ষেত্রে তাই বিশেষ অসুবিধা হয়নি। তাদের দুই বোনেরই ইচ্ছা ছিল অভিনয়কে পেশা হিসাবে বেছে নেবেন।

কারিনার কথায়, অনেকেই ভাবেন, এটা বোধহয় খুব সহজ কাজ। কিন্তু অভিনয় মোটেই সহজ কাজ নয়। এখানে সাফল্য পাওয়া রীতিমতো কঠিন।

এই প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে টুইঙ্কল বলেন, কারিশ্মা এবং করিনার যেমন ইচ্ছা ছিল, অভিনয়কেই পেশা হিসাবে বেছে নেবেন, তার ক্ষেত্রে তেমন হয়নি। বরং তিনি অন্য কিু করবেন বলেই ভেবেছিলেন। কিন্তু সেই সময়ে তার মা ডিম্পলের উপর তাদের দুই বোন-সহ গোটা পরিবারের দায়িত্ব। তাই মাকে সাহায্য করার জন্যই শেষ পর্যন্ত অভিনয়ে চলে আসেন তিনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত