হেফাজতে ইসলামের কারাবন্দী নেতা-কর্মীসহ আলেমদের মুক্তি দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংগঠনটির আমির মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী।
বৃহস্পতিবার বিকেলে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সরকারের কাছে এ দাবি জানান তিনি।
বিবৃতিতে বলা হয়, আলেমরা কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত নন। তারা পবিত্র কোরআন ও হাদিসের পাঠদানে মাদ্রাসায় মগ্ন থাকেন। দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য সর্বসাধারণকে উদ্বুদ্ধ করেন। অথচ ডজন ডজন মিথ্যা মামলা দিয়ে তাদের কারারুদ্ধ করা হয়েছে। এমন আচরণ ইসলাম ও দেশের জন্য খুবই দুঃখজনক।
বিবৃতিতে হেফাজতের আমির আরও বলেন, হেফাজতে ইসলামের ১৩ দফার মধ্যে রাজনৈতিক বা ক্ষমতাকেন্দ্রিক কোনো উদ্দেশ্য নেই। এসব দফার আন্দোলনের সঙ্গে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের কোনো কর্মসূচি নেই। কিন্তু জানতে পেরেছি, হেফাজতের নেতা–কর্মীরা কারাগারে ভালো নেই।
সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বিবৃতিতে মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী বলেন, প্রশাসনের ভেতর ঘাপটি মেরে থাকা নাস্তিক্যবাদীর প্রতিনিধিরা সরকার ও হেফাজতের মধ্যে ভুল–বোঝাবুঝি এবং দূরত্ব সৃষ্টি করে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছে। হেফাজতে ইসলাম বিশৃঙ্খলা চায় না।
স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশ সফরে আসেন গত বছরের মার্চে। সে সময় তার সফরের বিরোধিতা করে মাঠে নামে হেফাজতে ইসলাম। ২৬ মার্চ জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম এলাকায় বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ও পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় হেফাজতের নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষ হয়। এই খবর ছড়িয়ে পড়লে ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, কিশোরগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মাঠে নামে হেফাজত। সংগঠনের নেতা-কর্মীরা সেদিন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ান। সংঘর্ষে ১৯ জন নিহত ও পুলিশসহ ৫০০ জন আহত হন। হামলা-ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ করা হয় সরকারি-বেসরকারি স্থাপনায়।
ওই সহিংসতার ঘটনায় সারা দেশে হেফাজতের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে ১৫৪টি মামলা করা হয়েছে। ঘটনার পর ১ হাজার ৩০৩ জনকে গ্রেপ্তারের কথা জানা গেছে। পরে অনেকে জামিনে বেরিয়ে আসেন।
