শিরোপা ধরে রাখার আশা নিয়ে এবারের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু হলো উল্টোটা। একের পর এক হারে টুর্নামেন্টের অষ্টম দল হয়ে বিদায় নিতে হলো যুব টাইগারদের।
আরিফুল ইসলামের টানা দ্বিতীয় সেঞ্চুরিতেও দক্ষিণ আফ্রিকার যুবাদের কাছে হেরেছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের দেওয়া ২৯৪ রানের লক্ষ্য ৭ বল ও ২ উইকেট হাতে রেখে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় প্রোটিয়া যুবারা।
বৃহস্পতিবার অ্যান্টিগার কুলরিজ ক্রিকেট গ্রাউন্ডে সপ্তম স্থান নির্ধারণী প্লে-অফ ম্যাচে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে ৮ উইকেটে ২৯৩ রান করে বাংলাদেশ। দলকে ভালো সূচনা এনে দেন দুই ওপেনার মাহফিজুর রহমান (২৯) ও প্রান্তিক নওরোজ নাবিল (৩৮)।
আইচ মোল্লার (১) বিদায়ের পর চারে ব্যাটিংয়ে নামেন আরিফুল। বাংলাদেশকে তিনশ’ ছুঁই ছুঁই স্কোর এনে দেওয়ার পথে উইকেটরক্ষক মোহাম্মদ ফাহিম (৩৬) ও মেহরাব হাসানের (৩৬) সঙ্গে বড় দুটি জুটি গড়ে টানা দ্বিতীয় সেঞ্চুরি উদ্যাপন করেন কিশোরগঞ্জের এই ডানহাতি ব্যাটার।
আরিফের ১০৩ বলে ১০২ রানের ইনিংসটি সাজানো ছিল ৯ চার ও ৩ ছয়ে। এর আগের ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে ১০০ রানের ইনিংস খেলেন বাংলাদেশের সম্ভাবনাময়ী এই কিশোর।
তবে বাংলাদেশের যুবাদের এই পুঁজিকেও মামুলি বানিয়ে ফেলেন ‘বেবি এবি’ তকমা পেয়ে যাওয়া দেওয়াল্ড ব্রেভিস। আরিফের সেঞ্চুরির জবাব সেঞ্চুরিতে দেন তিনি। এবি ডি ভিলিয়ার্সের মতো ব্যাট করতে পারেন বিধায় ইতোমধ্যে ছোট এবি হিসেবে নাম কুড়িয়েছেন ব্রেভিস। ম্যাচ সেরা হওয়া হওয়া এই ব্যাটার এই রেকর্ডও গড়েছেন।
যুব বিশ্বকাপ ইতিহাসের এক আসরে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের তালিকায় শীর্ষে উঠেছেন ব্রেভিস। ৫০৬ রান করেছেন তিনি। এর আগে ২০০৪ সালে ৫০৫ রান করে এতদিন রেকর্ডটি নিজের করে রেখেছিলেন শিখর ধাওয়ান।
বাংলাদেশের বিপক্ষে ওয়ান-ডাউনে ব্যাটিংয়ে নেমে ১৩০ বলে ১১ চার ও ৭ ছয়ে ১৩৮ রান করেন ব্রেভিস। শুরুতেই প্রোটিয়া ওপেনার জেড স্মিথকে (১০) ফিরিয়ে বাংলাদেশ দলে আশার হাওয়া দিয়েছিলেন মুশফিক হাসান।
কিন্তু আরেক ওপেনার রোনান হারমানকে (৪৬) নিয়ে ৮৬ রানের জুটি গড়েন ব্রেভিস। শেষদিকে দুই অপরাজিত ব্যাটার মাইকেল কোপল্যান্ড (৬) ও লিয়াম এলডার (১০) দ. আফ্রিকাকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন। ৪৮.৫ ওভারে ৮ উইকেটে ২৯৮ রান করে প্রোটিয়া যুবারা।
বাংলাদেশের হয়ে দুটি করে উইকেট ভাগাভাগি করেন রিপন মণ্ডল, মুশফিক ও মেহরাব।
