রাজধানীর মিরপুর-১৪ নম্বর কচুক্ষেত এলাকার রজনীগন্ধা টাওয়ারের ‘রাঙাপরী জুয়েলার্স’ এর দোকানে দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটেছে। চোরেরা পাশাপাশি থাকা দোকানের শো-রুম ও স্টোর-রুমের তালা কেটে ৩০০ ভরি স্বর্ণ, ৩০ লাখ টাকা মূল্যের ডায়মন্ড ও নগদ ৫ লাখ টাকা নিয়ে গেছে বলে দাবি করেছেন দোকান মালিক।
শুক্রবার দিবাগত গভীর রাতে রজনীগন্ধা টাওয়ারের এক নিরাপত্তা প্রহরীর সহায়তায় এ চুরির ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে পুলিশ। শনিবার রাত ৮ টা পর্যন্ত চুরির ঘটনায় পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী দোকান মালিক আবুল কালাম ভূঁইয়া বাদী হয়ে অজ্ঞাত পরিচয়ের আসামিদের বিরুদ্ধে ডিএমপির ভাষানটেক থানায় মামলা করেছেন।
ভাষানটেক থানার ওসি দেলোয়ার হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, চুরির ঘটনায় ইতিমধ্যে ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে পুলিশ। ফুটেজে দেখা গেছে, তিনজন দোকানের তালা কেটে প্রবেশ করে। চুরির ঘটনায় ওই মার্কেটের এক নিরাপত্তা প্রহরীকে সহায়তা করতেও দেখা গেছে। সে ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছে। ওই রাতে ভবনটির নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিল মোট দুজন।
তিনি বলেন, ঘটনাটি রাত ৩টা থেকে সাড়ে ৪টার মধ্যে ঘটেছে। চুরির কাজ শেষ করে চোরচক্র নিরাপদে পালিয়ে যায় সকাল ৬টার দিকে। সিসিটিভি ক্যামেরায় পুরো ঘটনাই ধরা পড়েছে। চোরেরা দোকানের দুটি লকার ভেঙে স্বর্ণ, ডায়মন্ড ও নগদ টাকা নিয়েছে। দোকানের মালিক আবুল কালাম ভূঁইয়া অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেছেন। এজাহারে প্রায় ৩০০ ভরি স্বর্ণ ও ৩০ লাখ টাকার ডায়মন্ড ও নগদ পাঁচ লাখ টাকা খোয়া গিয়েছে বলে দাবি করেছেন। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
পুলিশ ও মার্কেটটির অন্য দোকানিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শনিবার সকাল ১০ টার দিকে রাঙাপরী জুয়েলার্স এর কর্মচারীরা দোকান খুলতে এসে দেখেন সবগুলো তালা কাটা। পরে ভেতরে ঢুকে দেখেন চোরেরা সব নিয়ে গেছে। রাঙাপরী জুয়েলার্স এর পাশে আরও চারটি জুয়েলারির দোকান থাকলেও সেখানে কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।
চুরি হওয়া দোকানের পাশেই হোমিও প্যাথিকের একটি ক্লিনিকের মালিক এম এ হাবিব দেশ রূপান্তরকে জানান, গত ছয় বছর ধরে মার্কেটটিতে তারা বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা করছেন। সেখানকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা অত্যন্ত ভালো। বেষ্ট সিকিউরিটি সার্ভিস লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠান নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছে।
