রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ছাত্রদলের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
রবিবার সন্ধ্যা সোয়া ছয়টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পুলিশের ৬ সদস্যসহ ছাত্রদলের ১২জন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন।
ছাত্রদলের আহত নেতা-কর্মীদের রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে বলে জানান দলের কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন।
অন্যদিকে, পল্টন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাহউদ্দিন মিয়া জানান, হামলার ঘটনায় পল্টন থানার এসআই রেজাউল ইসলামের মাথা ফেটে যায়। এছাড়া সহকারী কমিশনার আবুল হাসানসহ পাঁচজন পুলিশ সদস্য আহত হন।
তিনি বলেন, এই অবস্থায় পুলিশ লাঠিচার্জ, টিয়ারগ্যাস ছুড়ে করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় এবং ঘটনাস্থল থেকে অন্তত ১০ জনকে আটক করেছে।
রাতে নয়াপল্টনে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করে বলেন, পুলিশ বিনা উসকানিতে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা করেছে। এতে অসংখ্য নেতাকর্মী আহত হয়েছেন এবং ২০জনের অধিক নেতাকর্মীকে পুলিশ আটক করেছে। ঘটনার পরে রাত ৮ টার সময় বাসায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে দলীয় কার্যালয় থেকে বের হওয়ার সময় পুলিশ ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্যসচিব রফিকুল আলম মজনুকে আটক করে।
ছাত্রদল সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন দেশ রূপান্তরকে বলেন, রাজধানীর রূপনগরে ছাত্রদলের কর্মী সভায় পুলিশ ও ছাত্রলীগ হামলা চালায়। এই ঘটনার প্রতিবাদে সন্ধ্যার পর ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে মিছিল বের করলে পুলিশ ধাওয়া দেয়। এ সময় আমাদের ১০/১২ নেতা-কর্মী আহত হয়েছে। এর মধ্যে বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনার পর থেকে দলীয় কার্যালয়ের চারপাশে ঘিরে রেখেছে পুলিশ। আমাদের অনেক নেতাকর্মী কার্যালয়ে অবরুদ্ধ রয়েছে।
সন্ধ্যার মিছিলে উপস্থিত ছিলেন-কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন রাজু, তানজিল হাসান, তবিবুর রহমান সাগর, আরিফুল হকসহ মহানগরের বিভিন্ন ইউনিটের নেতৃবৃন্দ।
পল্টন থানার ওসি সাংবাদিকদের বলেন, বিএনপি কার্যালয়ে প্রতিদিনই দলটি বা অঙ্গ সংগঠনের নানা কর্মসূচি থাকে। এ জন্য সেখানে নিরাপত্তার জন্য সার্বক্ষণিক পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়। রবিবার থানা পর্যায়ে ছাত্রদলের কর্মী সমাবেশ ছিল। এরপর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই হঠাৎ করে ছাত্রদলের বেশ কয়েকজন বিএনপি অফিসের সামনের রাস্তা অবরোধ করে মিছিল বের করে। এতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং সেখানে থাকা অল্পসংখ্যক পুলিশ সদস্য তাদের মিছিল করতে নিষেধ করেন। কিন্তু তারা কোনো কথা না শুনে বিভিন্ন দিক থেকে পুলিশের উপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে।
রাতে সংবাদ সম্মেলনে রিজভী বলেন, মজনু ছাড়াও শ্যামপুর থানা বিএনপির নেতা কাজী ইমতিয়াজ আহমেদ টিপু, মৎস্যজীবী দলের যুগ্ম আহ্বায়ক জহিরুল ইসলাম বাশার, মুগদা থানা বিএনপির সদস্য মো. মজিবর, ছাত্রদলের স্টাফ মুন্নাসহ ২০ জনের অধিক নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশি হামলায় ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সাঈফ মাহমুদ জুয়েল, মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের সদস্যসচিব আশরাফুল ইসলাম মামুন, যুগ্ম আহ্বায়ক আকরাম আহমেদ, তাইফুর রহমান ফুয়াদসহ ১৫ জনের অধিক নেতাকর্মী আহত হয়। বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের প্রায় ৩০/৩৫টি মোটরসাইকেল উঠিয়ে নিয়ে গেছে পুলিশ।
এর আগে বিকেলে রূপনগরে কর্মী সম্মেলনে পুলিশ ও ছাত্রলীগ হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে ছাত্রদল। ছাত্রদলের নেতারা জানান, এ ঘটনায় কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েল, মহানগর পশ্চিমের সদস্যসচিব আশরাফুল ইসলাম মামুন, যুগ্ম আহ্বায়ক আকরাম আহম্মেদ, তাইফুর রহমান ফুয়াদসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
