বাবা থেকেও নেই। মা একটি মেসে রান্নার কাজ করেন। বড় বোন স্থানীয় একটি স্কুলের অষ্টম শ্রেণিতে পড়ালেখা করছে। মায়ের উর্পাজনে খেয়ে-না খেয়ে কোনোরকমে দিন কাটে তাদের। বড় বোনের লেখাপড়ার খরচ জোগাতে নিজে স্কুল ছেড়ে মহাসড়কে নেমেছে ইয়াছিন (১২)। সে এখন লেগুনার হেলপার।
মা নিলুফা বেগম আর বড় বোন শিলাকে নিয়ে আশুলিয়ার বুড়ির বাজার এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকে ইয়াছিন। এই বয়সেই সংসারের দায়িত্ব নিজ কাঁধে তুলে নিয়েছে সে।
নিজের স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে গেলেও বড় বোনের পড়ালেখার খরচ জোগানোর চেষ্টার কোনো কমতি নেই ইয়াছিনের। বড় বোন শিলা মেধাবী ছাত্রী বলে জানায় সে।
এক বছর আগে বন্ধু আব্দুল্লার সাথে আশুলিয়ার বাইপাইল বাসস্ট্যান্ডে এসে লেগুনা চালকের হেলপারের কাজ শুরু করে ইয়াছিন। সেই থেকে বদলে যায় তার জীবন।
এখন নিয়মিত বাইপাইল বাসস্ট্যান্ডে গাড়িতে যাত্রী উঠিয়ে টাকা আয় করছে ইয়াছিন। একটি লেগুনা বা মিনিবাসে যাত্রী উঠিয়ে ১০ টাকা পায় সে। এতে সারাদিনে ১০ থেকে ২০টি গাড়িতে যাত্রী উঠিয়ে ১০০ থেকে ২০০ টাকা উপার্জন হয়।
শুধু ১০ টাকায় যাত্রী তোলা নয়, মাঝেমধ্যে লেগুনা বা মিনিবাসের হেলপার হিসেবেও কাজ করে সে।
হেলপার হিসেবে কাজের জন্য বাইপাইল থেকে আব্দুল্লাহপুর, আব্দুল্লাহপুর থেকে নবীনগর পর্যন্ত গাড়ির পিছনে ছুটে বেড়াতে হয় তাকে।
অনেকটা আবেগজনিত কন্ঠে ইয়াছিন বলে, বাবা নেই, মা ম্যাসে রান্না করে। সেই টাকা দিয়ে আমাদের সংসার চলে। সেই টাকায় আমরা ভাইবোন পড়ালেখা করতাম। আমি ৫ম শ্রেণিতে পড়েছিলাম। হঠাৎ করোনায় স্কুল বন্ধ হয়ে যায়। তারপরেও স্কুল বেতন দিতে হতো। দুই ভাই-বোনের মাসিক বেতন ৩ হাজার টাকার উপরে। মায়ের বেতন মাত্র ৮ হাজার টাকা। তা দিয়ে কিভাবে চলবো বলেন। তাই এখন এই কাজ করি।
ইয়াসিনের বাবা সেলিম একজন কাপড় ব্যবসায়ী। বর্তমানে তিনি গ্রামের বাড়িতে থাকেন। তিনি তাদের কোনো খোঁজখবর নেন না। তাই বাবা নেই বলেই সবাইকে জানায় ইয়াছিন।
