নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় দুটি স্কুলের প্রবেশ পথে দুই বছর ধরে আটকে আছে ময়লা পানি। কেমিক্যাল আর পয়ঃবর্জ্য মিশ্রিত নোংরা পানিতে সয়লাব হয়ে আছে সড়ক। সেই পানি মাড়িয়েই চলাচল করতে হচ্ছে সরকারি স্কুল দুটির পাঁচ হাজারের বেশি শিক্ষার্থীর। পাশাপাশি একটি সরকারি কমিউনিটি ক্লিনিকের সেবাপ্রত্যাশী এবং স্থানীয় বাসিন্দাদেরও এ নোংরা পানি মাড়িয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। ফতুল্লা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় ও সেহাচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের সড়কের এ চিত্র গত দুই বছর ধরে স্থায়ী রূপ নিলেও টানা ছয় বছরের বেশি সময় ধরেই এ অবস্থা চলে আসছে শিল্প অধ্যুষিত এই এলাকায়। এতে শিক্ষার্থীসহ অনেকেই চর্মরোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। জনপ্রতিনিধিসহ বিভিন্ন স্থানে ধরনা দিয়েও এর কোনো সমাধান পাচ্ছেন না ভুক্তভোগীরা।
জানা গেছে, প্রাচীন প্রতিষ্ঠান দুটি এ অঞ্চলের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। বিদ্যালয়ের আশপাশে বেশ কিছু তৈরি পোশাক কারখানার ডাইং গড়ে উঠেছে। রাত হলেই ডাইংগুলো থেকে কেমিক্যাল মিশ্রিত পানি ছেড়ে দেওয়া হয়।
সরেজমিন দেখা যায়, রাস্তার পাশের ড্রেনটি অপেক্ষাকৃত সরু। ময়লা-আবর্জনা ও বালুমাটি জমে ভরে গেছে। তাই ডাইং থেকে পানি ছাড়লেই সড়কের ওপরে উঠে যাচ্ছে। সড়ক দিয়ে রিকশা বা মোটরসাইকেল যাওয়ার সময় রীতিমতো ঢেউ উঠে। এ দুরবস্থার কারণে দীর্ঘদিন ধরে এ সড়কে অন্যান্য যান চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মোখলেছুর রহমান বলেন, ‘ডাইংয়ের কেমিক্যাল মিশ্রিত পানি ড্রেন উপচে সড়কে উঠে যায়। এই পানি রাস্তায় ১২ থেকে ১৮ ঘণ্টা পর্যন্ত থাকে।’
ফতুল্লা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘এ স্কুল ফতুল্লার একটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। কিন্তু পরিতাপের বিষয় শুকনো মৌসুমেও কেমিক্যাল মিশ্রিত গরম পানির কারণে ছাত্রছাত্রীদের যাতায়াত করতে খুবই অসুবিধা হচ্ছে। অনেক শিক্ষার্থীর পা ও হাতে ঘা হচ্ছে। বর্তমানে করোনার কারণে স্কুল বন্ধ, অচিরেই খুলে দেওয়া হলে কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে পড়বে শিক্ষার্থীরা।’
সড়কটির পাশে অবস্থিত কমিউনিটি ক্লিনিকের পরিবার কল্যাণ সহকারী রিজভী ফারহানা বলেন, ‘পানিগুলো এতটাই দূষিত যে এখানে বেশিরভাগ রোগীই আসছে চর্মরোগ নিয়ে। ক্লিনিকে চর্মরোগের বরাদ্দ ওষুধ ও মলমের চেয়েও রোগীর সংখ্যা বেশি।’
ফতুল্লা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান লুৎফর রহমান স্বপন বলেন, ‘পানিগুলো বের হওয়ার ব্যবস্থা নেই। খাল দিয়ে পানি বের হওয়ার কথা থাকলেও এলাকা নিচু হওয়ায় সেখান দিয়ে উল্টো পানি আসে। আমরা এর প্রতিকারের জন্য কয়েকবার আবেদন করেছি, আশা করছি ডিএনডি প্রকল্প সম্পন্ন হলে পানি বের হওয়ার একটি স্থান পাবে।’
