মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন হুঁশিয়ার দিয়েছেন যে, রাশিয়া ইউক্রেনের সীমান্তে আরও সেনা মোতায়েন করছে এবং যে কোনোও সময় দেশটিতে হামলা চালাতে পারে। এমনকি ২০ ফেব্রুয়ারি শেষ হতে যাওয়া চীনে চলমান শীতকালীন অলিম্পিকের মধ্যেই হামলা চালাতে পারে।
অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন আজ শুক্রবার বলেন, ‘আমরা এমন একটি পর্যায়ে রয়েছি যখন একটি আক্রমণ যে কোনো সময় শুরু হতে পারে, এবং অলিম্পিক চলাকালেই তা হতে পারে’। মস্কো তার মিত্র চীনকে বিব্রত করা এড়াতে বেইজিং গেমসের পর পর্যন্ত অপেক্ষা করবে এমন ভাবনাও নাকচ করে দেন তিনি।
মেলবোর্নে তথাকথিত কোয়াড জোটভুক্ত দেশ- অস্ট্রেলিয়া, ভারত, জাপানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক বৈঠকের পর ব্লিঙ্কেন বলেন, ‘সোজা কথায়, আমরা রাশিয়ান উত্তেজনার খুব উদ্বেগজনক লক্ষণ দেখতে পাচ্ছি’।
ব্লিঙ্কেন জোর দিয়ে বলেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ‘কূটনীতির মাধ্যমে’ রাশিয়ার সঙ্গে ‘বিরোধ নিরসন করতে দৃঢ়ভাবে পছন্দ করবে। আমরা রাশিয়াকে সম্পৃক্ত করার জন্য সম্ভাব্য সব রকমের চেষ্টা করেছি’।
‘তবে একই সময়ে, আমরা প্রতিরোধ এবং প্রতিরক্ষা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে খুব স্পষ্ট ছিলাম এবং রাশিয়াকে এটা স্পষ্ট করে দিয়েছি যে যদি তারা নতুন করে আগ্রাসনের পথ বেছে নেয়, তবে তারা ভয়াবহ পরিণতির মুখোমুখি হবে’।
রাশিয়ার হামলা নিয়ে তার এই হুঁশিয়ারি এমন এক সময়ে এসেছে যখন মার্কিন রাষ্ট্রপতি জো বাইডেন ইউক্রেনে থাকা আমেরিকান নাগরিকদের অবিলম্বে সে দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এটি আরেকটি শক্তিশালী সংকেত যে যুদ্ধ ঘনিয়ে আসতে পারে।
বাইডেন এনবিসি নিউজের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘আমেরিকান নাগরিকদের ইউক্রেন ছেড়ে চলে যাওয়া উচিত, এখনই চলে যাওয়া উচিত। আমরা বিশ্বের বৃহত্তম সেনাবাহিনীর একটির সঙ্গে মোকাবিলা করছি। এটি খুব ভিন্ন একটি পরিস্থিতি এবং সবকিছু দ্রুতই উলট-পালট হয়ে যেতে পারে’।
ওদিকে, রাশিয়ার বিরুদ্ধে সমুদ্র অবরোধ এবং সাগরে প্রবেশে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলেছে ইউক্রেন।
এমনিতেই বেলারুশের সাথে সামরিক মহড়া শুরু করেছে রাশিয়া। আগামী সপ্তাহে নৌ মহড়ার জন্য প্রস্তুত হচ্ছে মস্কো। পাল্টা মহড়া চালাচ্ছে ইউক্রেনও। উত্তেজনাকর এই পরিস্থিতির মধ্যেই রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিজেদের সমুদ্র অবরোধের অভিযোগ তুলল কিয়েভ।
ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দিমিত্র কুলেবা জানিয়েছেন, আজভ সাগর থেকে ইউক্রেনকে সম্পূর্ণরূপে অবরুদ্ধ এবং কৃষ্ণ সাগরেও প্রায় পুরোপুরি ভাবে দেশটিকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে রুশ সামরিক বাহিনী।
ইউক্রেন সীমান্তে দীর্ঘদিন ধরেই এক লাখের বেশি সেনাসদস্য মোতায়েন করে রেখেছে প্রতিবেশী দেশ রাশিয়া। এর মধ্যে ট্যাংক ও কামানসহ যুদ্ধবিমানের বহরও ইউক্রেন সীমান্তে পাঠিয়েছে দেশটি।
এর মধ্যেই প্রতিবেশী দেশ বেলারুশের সঙ্গে সামরিক মহড়া শুরু করেছে রাশিয়া। বেলারুশ দীর্ঘদিন ধরেই মস্কোর ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে কাজ করছে এবং ইউক্রেনের সঙ্গে দেশটির বিশাল সীমানাও রয়েছে।
আগামী সপ্তাহে আজভ সাগর এবং কৃষ্ণ সাগরে নৌ মহড়া চালাবে রাশিয়া। এই দুটি সাগরই ইউক্রেনের দক্ষিণে অবস্থিত। মহড়াকে সামনে রেখে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ এবং গোলাগুলির বিষয়ে উপকূলীয় সতর্কতাও জারি করেছে রাশিয়া।
ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, আজভ সাগর এবং কৃষ্ণ সাগরের বিশাল এলাকাজুড়ে নৌ মহড়া চালানো হলে সেখানে বাস্তবিক ভাবেই সাধারণ নৌ চলাচলকে অসম্ভব করে তুলবে।
এছাড়া টুইটারে দেওয়া এক বার্তায় ইউক্রেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওলেকসি রেজনিকভ জানিয়েছেন, আজভ সাগর এবং কৃষ্ণ সাগরের বিশাল আন্তর্জাতিক পানিসীমা অবরোধ করেছে রাশিয়া।
