দেশে অর্থনীতি ও উন্নয়নে জ্বালানি খাত গুরুত্বপূর্ণ। তবে জ্বালানির বিকাশ কোন ধারায় হচ্ছে, কী ধরনের জ্বালানি কতটুকু আহরিত ও ব্যবহৃত হবে, তা নিয়ে বিস্তর গবেষণার সময় এসেছে। বাংলাদেশের পরিবেশ রক্ষার জন্য জ্বালানির বিকাশ সঠিক ধারায় রাখা প্রয়োজন। তাই বিজ্ঞজনের আলোচনার ভিত্তিতে জ্বালানি বিষয়ে নতুন নীতিনির্ধারণ করতে হবে।
গতকাল শুক্রবার স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে শুরু হওয়া ‘জ্বালানি, জলবায়ু পরিবর্তন ও টেকসই উন্নয়ন’ শীর্ষক দুই দিনব্যাপী বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)-বেন সম্মেলনে বক্তারা এসব কথা বলেন। সম্মেলনে ৬০টি প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হবে। দেশ ও বিদেশের পরিবেশবাদী সংগঠন ও ব্যক্তিরা এতে অংশ নিচ্ছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, নব্বই দশকে সরকার যে জ্বালানি পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছিল তাতে কয়লার ওপর অত্যধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়। পরে কয়েক দফা সংশোধনের মাধ্যমে কয়লার গুরুত্ব কমানো হয়েছে। কিন্তু এখনো সরকারের পরিকল্পনায় কয়লা একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে রয়ে গেছে। সরকারের অন্যান্য কাজে যেমন প্রকল্পভিত্তিক ও বিদেশি পরামর্শকভিত্তিক সমাধান করা হয়, জ্বালানির ক্ষেত্রে তা করা যাবে না। কারণ এ ক্ষেত্রে জলবায়ু পরিবর্তন, দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা ও উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে। ফলে জ্বালানি নিরাপত্তার পরিকল্পনায় সব ধরনের মতামতকে গুরুত্ব দিতে হবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, ‘সমালোচনাকে আমি স্বাগত জানাই। পরিবেশবিরোধী সব দখলদারদের উচ্ছেদ করাটাকে আমরা চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করছি। জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সার্বিক উন্নয়নের জন্য আমাদের একত্রে কাজ করতে হবে।’
সভাপতির বক্তব্যে বাপার সভাপতি সুলতানা কামাল বলেন, ‘উন্নয়নের দরকার আছে, উন্নয়নের জন্য বিদ্যুতের দরকার আছে। তবে সেই বিদ্যুৎ আমরা কিসের বিনিময়ে নিচ্ছি তা নিয়ে অবশ্যই আমাদের চিন্তা করতে হবে। রামপাল নিয়ে অনেক আন্দোলন হয়েছে। চার বছর আগে আমরা রামপাল নিয়ে ১৩টি বৈজ্ঞানিক গবেষণা সরকারের কাছে তুলে দিয়েছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত সরকার তা বিবেচনায় নেয়নি। অবস্থান পরিষ্কার করেনি।’
বাপার সদস্য ও অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, ‘বাংলাদেশ এত বেশি ঘনবসতিপূর্ণ দেশ যেকোনো জায়গায় শিল্প স্থাপন করতে গেলে জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের বিরূপ প্রভাব পড়বেই। সে প্রভাব কত বেশি সীমিত রাখা যায়, সেটাই মূল উদ্দেশ্য হতে হবে। এর ওপর আবার জলবায়ু পরিবর্তনের যে অভিঘাত সেখানেও বাংলাদেশ প্রথম সারিতে।’
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সাংসদ সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘দেশের জন্য যেটা ভালো আমরা সেটাই করব। আমাদের দেশের পরিকল্পনায় এক ধরনের শূন্যতা বিরাজ করে। ফলে আমরা উন্নয়ন সহযোগীদের সব প্রস্তাবনাই গ্রহণ করে নিই।’
বাপার সাধারণ সম্পাদক শরীফ জামিলের সঞ্চালনায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মূল প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন সংগঠনের সহসভাপতি ড. নজরুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাপার নির্বাহী সহসভাপতি ডা. মো. আবদুল মতিন।
সবশেষে জ্বালানিনীতি বিষয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও নেতাদের অভিমতবিষয়ক অধিবেশন হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগ নেতা দেলোয়ার হোসেন, বিএনপি নেতা সাখাওয়াত হাসান জীবন, সিপিবির কেন্দ্রীয় সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স এবং গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি প্রমুখ।
