‘অবশ্যম্ভাবী পদচ্যুতির’ আগে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদকে যত্রতত্র ‘স্বভাবসুলভ মিথ্যা’ না বলার আহ্বান জানিয়েছেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।
গত ১৪ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের এক অনুষ্ঠানে উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেছেন, ‘অন্যায় আবদার করলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মাথা নত করবে না, একজনও যদি ন্যায্য কথা বলে তাহলে আমরা গুরুত্ব দিয়ে এটা সমাধানের ব্যবস্থা করব। আমরা ন্যায় এবং সত্যের পথে থাকব। আপনারা দেখতে পেয়েছেন সত্য এবং ন্যায় আজকে বিজয়ী হয়েছে, টিকে আছে। মিথ্যা আজকে পরাভূত হয়েছে।’
উপাচার্যের ওই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বুধবার বিকেলে আন্দোলনরতদের মুখপাত্র মুহাইমিনুল বাশার রাজ প্রেরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ আহ্বান জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শিক্ষার্থীদের সবগুলো দাবির ব্যাপারেই যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে এমন সুস্পষ্ট আশ্বাসে শিক্ষার্থীরা আপাতত আন্দোলন স্থগিত করেছে। তাই বলে শিক্ষার্থীদের দ্বারা ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষিত উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদ যদি ভেবে থাকেন যে তিনি যা ইচ্ছা তাই বলতে পারবেন তবে বিরাট ভুল করছেন।
আরও বলা হয়েছে, সমস্ত বাধা-বিপত্তি, ভয়-ডর উপেক্ষা করে শাবিপ্রবি শিক্ষার্থীরা প্রায় এক মাসব্যাপী অন্যায়ের বিরুদ্ধে যে অভূতপূর্ব আন্দোলন চালিয়েছে তার যৌক্তিকতা, ন্যায্যতা ও নৈতিক ভিত্তি কিছু দালাল ও চাটুকার ব্যতীত সারা দেশে সর্বজনস্বীকৃত। ফরিদ উদ্দিন আহমেদ তার মিথ্যাচারের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রেখেছেন।
‘নিরস্ত্র শিক্ষার্থীদের ওপর বিনা উসকানিতে ফরিদ উদ্দিন আহমেদের নির্দেশে পুলিশের নিষ্ঠুর হামলা হয়েছে। এতে অসংখ্য শিক্ষার্থী আহত হয়েছে, তাদের আর্তনাদ, ২৮ জন ছাত্রছাত্রীর মরণপণ অনশন, সতীর্থ সজল কুন্ডুর শরীরের ৮০টিরও বেশি স্প্লিন্টারে যন্ত্রণা এখনো তরতাজা। তবু, আপনার তো পদত্যাগ করার সৎসাহসও হয়নি। তাই এখন অবশ্যম্ভাবী পদচ্যুতির আগে যত্রতত্র আপনার স্বভাবসুলভ মিথ্যার পসরা সাজিয়ে বসবেন না।’
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ১৬ই জানুয়ারির পুলিশি হামলার এক মাস পূর্তিতে শাবিপ্রবি শিক্ষার্থীরা মহামান্য আচার্যকে অবিলম্বে ফরিদ উদ্দিন আহমেদের অপসারণ নিশ্চিত করার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছে। একই সঙ্গে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের অনুষ্ঠানে ফরিদ উদ্দিন আহমেদের নির্লজ্জ মিথ্যাচার ও মনগড়া বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ করছে।
এতে বলা হয়, ঠিক এক মাস আগে এই দিনে ন্যায্য দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদের প্রত্যক্ষ মদদে পুলিশের বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটে। নিরস্ত্র শিক্ষার্থীদের ওপর রাবার বুলেট, শটগান, সাউন্ড গ্রেনেড সহযোগে এ হামলায় মারাত্মক আহত হয় অন্তত অর্ধশত শিক্ষার্থী। শটগানের ধাতব শ্রাপনেল, সাউন্ড গ্রেনেডের স্প্লিন্টার বিদ্ধ হয়ে এখনো চিকিৎসাধীন আমাদের বহু সহযোদ্ধা। ওই নারকীয় ঘটনার পরপরই শিক্ষার্থীরা সংঘবদ্ধ হয়ে শাবিপ্রবির ইতিহাসে নজিরবিহীন এই ঘটনার মূল কুশীলব উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমদকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে তার পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন শুরু করে। ভয়াল ১৬ ই জানুয়ারির এক মাস পূর্তিতে আমরা শাবিপ্রবি শিক্ষার্থীরা বলতে চাই, আমরা কিছুই ভুলিনি। আমাদের সমস্ত দাবির ব্যাপারে অতি শিগগিরই যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া হবে- শিক্ষামন্ত্রীর এমন ঘোষণায় আমরা আপাতত আন্দোলন প্রত্যাহার করেছি।
আমাদের শরীরে লাঠি, বুলেট, বোমার সকল আঘাত, জখম, ঝরা রক্ত আমাদের মনে অক্ষয় শক্তির জোগান দিয়ে অঙ্গার হয়ে জ্বলছে। ফরিদদের পতন না হলে এই অঙ্গার অপ্রতিরোধ্য দাবানলে পরিণত হবে।
