সাবেক মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশ প্রধানমন্ত্রীর ‘অনুকম্পা’ চেয়েছেন।
দুর্নীতি দমন কমিশনের দায়ের করা অবৈধ সম্পদের মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালত থেকে কারাগারে নিয়ে যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।
এদিন গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার থেকে চট্টগ্রামের আদালতে হাজির করা হয় প্রদীপ কুমার দাশকে। এ মামলার আরেক আসামি প্রদীপের স্ত্রী চুমকি কারণ পলাতক।
আদালত ভবন থেকে বের করে প্রিজন ভ্যানে তোলার সময় উপস্থিত সাংবাদিকদের উদ্দেশে জোরে জোরে কথা বলতে শুরু করেন প্রদীপ।
তিনি দাবি করেন, দেশের জন্য তিনি মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছেন। আর ‘কোনো অপরাধ না করেই’ শাস্তি পেয়েছেন।
তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমি আপনার অনুকম্পা চাই, সাহায্য চাই।
গত ৩১ জানুয়ারি কক্সবাজারের জেলা ও দায়রা জজ সিনহা হত্যা মামলার রায়ে টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপক কুমার দাশ ও বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের সাবেক পরিদর্শক লিয়াকত আলীকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। আরো তিন পুলিশ সদস্য এবং পুলিশের তিন সোর্সকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয় ওই রায়ে।
২০১৮ সালের ৪ মে ‘চল যাই যুদ্ধে, মাদকের বিরুদ্ধে’ স্লোগান নিয়ে দেশব্যাপী মাদক বিরোধী বিশেষ অভিযান শুরু হয়। ২০১৮ সালের ২০ অক্টোবর টেকনাফ থানায় যোগ দেন প্রদীপ। তার আগে তিনি একই জেলার মহেশখালী উপজেলার ওসি ছিলেন।
মহেশখালীতে জলদস্যু দমন ও টেকনাফে ইয়াবা প্রতিরোধে ভূমিকা রাখার জন্য ২০১৯ সালে বাংলাদেশ পুলিশের সর্বোচ্চ পদক বিপিএম পান সাবেক এ পুলিশ কর্মকর্তা।
টেকনাফ থানায় ইয়াবা কারবারিদের প্রতিরোধে কথিত বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় আলোচিত ও সমালোচিত ছিলেন তিনি।
২০২০ সালের ৩১ জুলাই মেরিন ড্রাইভ সড়কের বাহাড়ছড়া এলাকায় পুলিশের গুলিতে নিহত হন অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান।
ব্যাপক আলোচনার মধ্যে পুলিশ বাহিনী থেকে বরখাস্ত হয়ে ২০২০ সালের ৬ অগাস্ট আদালতের আত্মসমর্পণ করেন প্রদীপ। ওই বছরের ১২ অগাস্ট থেকে ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের আদালতে ১২টি মামলায় ১৫টি হত্যার অভিযোগ আনা হয় তার বিরুদ্ধে।
এ ছাড়া নির্যাতনের অভিযোগে কক্সবাজারের এক সাংবাদিকও প্রদীপের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পাশাপাশি অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ প্রদীপ ও তার স্ত্রী চুমকির বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন মামলা করে।
সিনহা হত্যাকাণ্ডের পর পর আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়, টেকনাফ থানায় ওসি প্রদীপের ৩৩ মাসের সময়কালে ১০৬ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় ১৭৪ ব্যক্তি নিহত হন।
