নোয়াখালীর বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা বলেছেন, জননেত্রী শেখ হাসিনা চাইলেও বাহাত্তরের সংবিধানে যেতে পারবেন না।
আরও বলেন, ‘বাহাত্তরের সংবিধানে ফিরে যাওয়া উচিত যেহেতু মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছিল বাহাত্তরের সংবিধান। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ছিল বাহাত্তরের সংবিধান। কিন্তু আজকে এরশাদ ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম করে সেটাকে ধ্বংস করে দিয়েছে। বিভিন্ন সংবিধান সংশোধনীর মাধ্যমে যে ধারায় বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে সে ধারা থেকে বাংলাদেশকে বিচ্যুতি ঘটানো হয়েছে।’
বসুরহাট বঙ্গবন্ধু চত্বরে শুক্রবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায় অটোরিকশা চালক বলরাম মজুমদারের হত্যার বিচার দাবিতে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে তিনি এ সব কথা বলেন।
কাদের মির্জা বলেন, ‘আমরা সবাই বাহাত্তরের সংবিধানে ফিরে যাওয়ার দাবি করতে পারি। একজন (সাবেক প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান) দাবি করে ধরা খেয়েছেন না! আমরা সবাই মিলে দাবি করলেও শেখ হাসিনা বাহাত্তরের সংবিধানে ফিরতে পারবেন না। কারণ ভারতও বাবরি মসজিদের মামলায় অসাম্প্রদায়িক রায় দিতে পারেনি, এখানেও সম্ভব নয়।’
বলরাম হত্যার সঙ্গে পুলিশের সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ‘কুলাঙ্গার ওসি সাজ্জাদ এখানে আসার পর থেকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। কিছুদিন আগে আপনারা শুনেছেন, একজন পুলিশ অটোরিকশা চুরি করার সময় পাবলিকের হাতে ধরা পড়েছে। অটোরিকশা চালকের চোখে মরিচের গুঁড়ো মেরে তার থেকে অটোরিকশা চুরি করেছে। চুরি করেছে কে? পুলিশ চুরি করেছে। এই কুলাঙ্গার ওসি তাকে সেখান থেকে নিয়ে এসেছে। আজকে এ থেকে প্রমাণিত হয়, যেহেতু পুলিশ ধরা পড়েছে এই বলরাম হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কোম্পানীগঞ্জের ওসিসহ পুলিশ জড়িত।’
‘চোরের কাছে চুরির বিচার চেয়ে কোনো লাভ নেই, হত্যাকারীর কাছে হত্যার বিচার চেয়ে কোনো লাভ নেই’— উল্লেখ করে পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশ, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে তদন্তের দায়িত্ব না দিয়ে ডিজিএফআই, এনএসআইকে দিয়ে মামলা তদন্তের দাবি জানান কাদের মির্জা।
মানববন্ধনটি আয়োজন করে হিন্দু বৌদ্ধ ঐক্য পরিষদ। সংগঠনটির নেতা বাবু অরবিন্দ ভৌমিকসহ সংশ্লিষ্ট অনেকেই সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
গত ৩১ জানুয়ারি দুপুরে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের চরকাঁকড়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বকসি ব্যাপারী বাড়ির সামনের ধানখেত থেকে অটোরিকশা চালক বলরামের হাত-পা বাঁধা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
