নিরাপদ ও আরামদায়ক যাতায়াতে ট্রেনের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। কোচগুলোও পরিচ্ছন্ন-আরামদায়ক করা হচ্ছে। কিন্তু এর মধ্যে আতঙ্করূপে দেখা দিয়েছে ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা। পাথরের আঘাতে জানালার কাচ ভেঙে আহত হচ্ছেন অনেক যাত্রী। চলন্ত ট্রেনে পাথর ছুড়ে মারার এমন ‘মরণ খেলায়’ মেতে ওঠে কিছু শিশু-কিশোরসহ নানা বয়সের মানুষ। এমন কান্ডের বিরুদ্ধে সচেতনতা গড়ে তুলতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন চুয়াডাঙ্গার এক স্কুলশিক্ষক। রেললাইনের প্রায় ৫০ কিলোমিটার পথ হেঁটে মাইকিং করে ও লিফলেট বিতরণ করে মানুষকে সচেতন করেছেন তিনি। চুয়াডাঙ্গার শহরতলির বেলগাছি গ্রামের স্কুলশিক্ষক বখতিয়ার হামিদ বিপুলের এ উদ্যোগে সঙ্গে ছিল তারই গ্রামের কয়েকজন স্কুলশিক্ষার্থী।
জানা গেছে, রেলপথে পাথর নিক্ষেপে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে সারা দেশে অন্তত ২০টি স্পট নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। এর মধ্যে চুয়াডাঙ্গা জেলার নামও রয়েছে। এটা জানার পরই জনসচেতনতার বিষয়টি মাথায় আসে শিক্ষক বখতিয়ারের। চারজন শিক্ষার্থীকে নিয়ে গত মঙ্গল ও বৃহস্পতিবার দিনব্যাপী এ কার্যক্রম চালান তিনি। দুদিনে আলমডাঙ্গা থেকে জীবননগরের উথলী পর্যন্ত রেললাইনের ধার ধরে হেঁটে হেঁটে প্রচারণা চালিয়েছেন। কখনো মাইকিং করেছেন, কখনো লিফলেট বিতরণ, আবার কখনো স্টেশনের দেয়ালে পোস্টার সাঁটিয়েছেন। আবার মানুষের ভিড়ে ব্যানার হাতে দাঁড়িয়ে পথসভাও করেছেন। এভাবেই পদযাত্রার মাধ্যমে ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে চাইলে বখতিয়ার হামিদ বিপুল বলেন, ‘আমরা রেলপথের দুইপাশের অধিবাসীদের সঙ্গে কথা বলে তাদের এলাকায় যাতে চলন্ত ট্রেনে কেউ ঢিল না ছোড়ে, সে বিষয়ে সচেতন করার চেষ্টা করেছি। দুদিনে ভাগ করে চুয়াডাঙ্গা থেকে উথলী এবং আলমডাঙ্গা থেকে চুয়াডাঙ্গা রেলওয়ে স্টেশন পর্যন্ত মোট ৪৭ দশমিক ২ কিলোমিটার রেলপথ হেঁটে এ কার্যক্রম চালানো হয়। এতে বেশ ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে।’
চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান সেলিম বলেন, ‘চলন্ত ট্রেনে পাথর ছুড়ে একধরনের “মরণ খেলায়” মেতে ওঠে শিশু-কিশোরসহ কিছু মানুষ। পাথর ছোড়া বন্ধে এমন উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে।’
চুয়াডাঙ্গার মোমিনপুর স্টেশন বাজারের ব্যবসায়ী রশীদুল হাসান টিপু বলেন, ‘ট্রেনযাত্রায় আতঙ্কের নাম হয়ে উঠেছে পাথর নিক্ষেপ। রেলযাত্রা নিরাপদ করতে এমন ভিন্ন কার্যক্রম সচেতনতা বৃদ্ধি করবে।’ বাংলাদেশ রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ বন্ধে জনসচেতনতা বাড়াতে কাজ করছে রেলওয়ে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোয় নিয়মিত রেল-পুলিশের টহল বাড়ানোসহ শিক্ষক, ধর্মীয় নেতা, মসজিদ-মন্দিরের ইমাম-পুরোহিতদের সহযোগিতায় জনসচেতনতা তৈরি করা হচ্ছে। এ ছাড়া কেউ পাথর নিক্ষেপকারীকে ধরিয়ে দিলে তাকে ১০ হাজার টাকা পুরস্কারের ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে।
