শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টির সাবেক শিক্ষক লেখক জাফর ইকবালকে প্রশ্ন করে কোনো লাভ হবে না বলে জানিয়েছেন তিনি।
তিনি বলেছেন, আমি এ বিষয়ে অনেক বিস্তারিত জানি, কিন্তু প্রকাশ্যে কিছু বলতে পারব না। টেলিভিশন বা মিডিয়ায় কথা বলতে পারব না। কারণ, তাদের কাছে কথা দিয়েছি যে আমি কিছু বলব না।
শনিবার বিকেলে বাংলা একাডেমিতে অমর একুশে বইমেলায় সাস্ট ক্লাব লিমিটেডের স্টল উদ্বোধনকালে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।
জাফর ইকবাল বলেন, আমি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের কাছে গিয়েছি, তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। কিন্তু এ বিষয়টি আমি পাবলিকলি বলতে পারব না। শাবিপ্রবির উপাচার্যের পদত্যাগের বিষয়ে আমাকে কিছু জিজ্ঞাসা করে লাভ নেই। এ বিষয়ে কিছু হলে তখন আপনারা নিজেরাও দেখবেন।
উল্লেখ্য, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে গত ১৯ জানুয়ারি থেকে আমরণ অনশনে বসেন শিক্ষার্থীরা। অনশনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা একের পর এক অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছিলেন। এ পরিস্থিতিতে সরকারের উচ্চ মহলের সঙ্গে কথা বলে ৭ দিন পর ঢাকা থেকে গিয়ে তাদের অনশন ভাঙান ড. জাফর ইকবাল।
শাবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের আন্দোলন শুরু হয় ১৪ জানুয়ারি দিবাগত রাতে। সেই রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী ছাত্রী হলের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে হলের প্রভোস্ট সহযোগী অধ্যাপক জাফরিন আহমেদকে ফোন করেন শিক্ষার্থীরা। কিন্তু প্রভোস্ট তাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন। এর প্রতিবাদে প্রভোস্টের পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন ছাত্রীরা। আন্দোলনের একপর্যায়ে ১৬ জানুয়ারি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়।
এরপর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগের নির্দেশ দেয়। তবে ওই নির্দেশনা অমান্য করে আন্দোলন চালিয়ে যান শিক্ষার্থীরা। প্রভোস্টের পদত্যাগের দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলন তখন উপাচার্যের পদত্যাগ দাবির আন্দোলনে পরিণত হয়।
পরে ১৯ জানুয়ারি বিকেল ৩টা থেকে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে আমরণ অনশনে বসেন ২৪ জন শিক্ষার্থী। একপর্যায়ে আমরণ অনশনরত শিক্ষার্থীদের প্রায় সবাই অসুস্থ হয়ে পড়েন। সাত দিন পর ড. জাফর ইকবালের অনুরোধে শিক্ষার্থীরা অনশন ভাঙেন।
পরে ১১ ফেব্রুয়ারি বিকেলে সিলেট সার্কিট হাউসে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বৈঠক করেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। ওই বৈঠকের পর দাবি মানার আশ্বাসের প্রেক্ষিতে ১২ ফেব্রুয়ারি আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা।
তবে, শিক্ষামন্ত্রীর আশ্বাসের এক সপ্তাহ পার হলেও কোনো ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
তারা বলেছেন, শিক্ষার্থীদের নামে হওয়া দুটো মামলা এখনো প্রত্যাহার করা হয়নি। এ ছাড়া বন্ধ করে দেয়া বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট এখনো সচল করা হয়নি।
ভিসির পদত্যাগের বিষয়ে খুব দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে তারা আচার্য বরাবর অনুরোধ জানিয়েছেন।
