ফ্রান্সে বসে ঢাকার স্বর্ণের দোকানে চুরির পরিকল্পনা

আপডেট : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০২:০৪ পিএম

রাজধানীর কচুক্ষেতে স্বর্ণের দোকানে সংঘবদ্ধ চুরির ঘটনার রহস্য উদ্‌ঘাটনসহ একজনকে গ্রেপ্তার ও ৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা উদ্ধার করেছে ডিএমপির গোয়েন্দা পুলিশ।

রবিবার পুলিশ জানায়, এই সংঘবদ্ধ চক্র ঢাকা মহানগর ও এর আশপাশ এলাকায় একাধিক চুরিতে জড়িত। চক্রের মূল হোতা ফ্রান্সে বসে চুরির পরিকল্পনা করে প্রাথমিক খরচের জোগান দেয় এবং দেশে অবস্থানকারী সদস্যরা পরিকল্পনামতো চুরির কাজ শেষ করে।

ডিএমপি জানায়, গাজীপুরের কড্ডা ও মুন্সিগঞ্জের বজ্রযোগিনী এলাকায় অভিযান চালিয়ে শনিবার একজনকে গ্রেপ্তার ও চুরি করা স্বর্ণ বিক্রির টাকা, ইমিটেশনের গয়না উদ্ধার করে গোয়েন্দা পুলিশের মিরপুর বিভাগ।

গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম মো. মঞ্জুরুল হাসান শামীম (৩৮)। গোয়েন্দা পুলিশের মিরপুর বিভাগের জোনাল টিম গোপন তথ্য ও তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেপ্তার করে।

উল্লেখ্য, চলতি মাসের ৫ তারিখ রাত একটার দিকে ভাষানটেক থানার পুরাতন কচুক্ষেতের রজনীগন্ধা টাওয়ারের নিচতলার রাঙ্গাপরী জুয়েলার্স থেকে ৩০০ ভরি স্বর্ণ, ইমিটেশনের গয়না ও নগদ টাকা চুরি হয়। এ ঘটনায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে ভাষানটেক থানায় মামলা হয়।

গ্রেপ্তার শামীম প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশকে জানায়, চোর চক্রের দুই সদস্য মাসুদ ও ইলিয়াস মিথ্যা নাম ও পরিচয় ব্যবহার করে ওই মার্কেটে সিকিউরিটি গার্ড ও সুইপারের চাকরি নেয়। তারা পরিকল্পনা মতো সেখানে চাকরি নিয়ে চক্রের অন্য সদস্যদের কাছে তথ্য সরবরাহ করতে থাকে।

ঘটনার আগের দিন চক্রের অন্য সদস্য শাহীন মাস্টার ওই মার্কেটে ১টি দোকান ভাড়া করে মালামাল তোলার নাম করে বিশেষ টেবিলে করে কৌশলে তালা ভাঙার সরঞ্জাম মার্কেটে প্রবেশ করায়। ঘটনার দিন রাত ১ টার দিকে চক্রের আরও দুই সদস্য শ্রীকান্ত ও রাজা মিয়া (তালা ভাঙার মিস্ত্রি) মার্কেটে প্রবেশ করে। পরে মাসুদ, ইলিয়াস, শ্রীকান্ত ও রাজা মিয়া কাজ শেষে চুরিকৃত স্বর্ণ, গয়না ও টাকা নিয়ে ভোর ৫ টার দিকে মার্কেট ত্যাগ করে।

তারা আগে থেকে ভাড়া করা কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদ এলাকার বাসায় চুরি করা মালামাল নিয়ে ওঠেন। আগে থেকে সেখানে অবস্থান করছিলেন চক্রের সদস্য শাহীন মাস্টার ও গ্রেপ্তার মঞ্জুরুল হাসান শামীম। পরে তারা সবাই মিলে চুরি করা প্রকৃত স্বর্ণ, ইমিটেশনের গয়না ও নগদ টাকা আলাদা করে। সকাল ১০ টার দিকে শ্রীকান্ত তার পূর্ব পরিচিত এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীর কাছে চুরি করে আনা স্বর্ণ বিক্রি করে টাকা নিয়ে আবার বাসায় ফিরে আসে। পরে সেখানে তারা নিজেদের মধ্যে সব টাকা ও ইমিটেশনের গয়না ভাগাভাগি করে ওই বাসা ত্যাগ করে যে যার মতো আত্মগোপনে চলে যায়।

জিজ্ঞাসাবাদে শামীম আরও জানায়, এই চোর চক্রের টিম লিডার ফ্রান্স প্রবাসী নাসির। সে শামীমের মাধ্যমে পরিকল্পনার বাস্তবায়ন ও প্রাথমিক অর্থের জোগান দিয়ে থাকে। প্রত্যেক সদস্যের আলাদা আলাদা দায়িত্ব নির্ধারণ করা থাকে এবং তারা সে অনুযায়ী নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করে থাকে। ইতিপূর্বে তারা ঢাকা মহানগর ও এর আশপাশ এলাকায় একাধিক চুরি করেছে বলে জানা যায়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত