টিকা নিতে আসা স্কুল-কলেজছাত্রদের ওপর পুলিশের ‘লাঠিপেটা’

আপডেট : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০৮:৩৯ পিএম

দিনাজপুরের পার্বতীপুরে করোনাভাইরাসের টিকা নিতে আসা স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের লাঠিপেটার অভিযোগ উঠেছে।

রবিবার দুপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিপেটা করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের। 

দুপুরে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, টিকা দেয়া শুরু হলে আগে টিকা নিতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে হুড়োহুড়ি শুরু হয়। উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শত শত শিক্ষার্থী করোনা টিকা নিতে এসেছে। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীদের নিয়ন্ত্রণে আনতে হাসপাতালে শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিপেটা শুরু করেন পুলিশ। লাঠিপেটা থেকে বাঁচতে শিক্ষার্থীরা দিগ্‌বিদিক ছুটোছুটি করতে থাকে।

টিকা নিতে আসা শিক্ষার্থী সুলতানা রাজিয়া ও মাহবুবা আক্তার বলেন, সকাল ৮টার দিকে বাড়ি থেকে বের হয়েছি। ৯টার দিকে এসে দেখি হাসপাতালে প্রচুর ভিড়। একপর্যায়ে হুড়োহুড়ি শুরু হলে পুলিশ আমাদের ওপর লাঠিপেটা শুরু করে।

টিকা প্রদান কাজে নিয়োজিত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বলেন, উঠতি বয়সের ছেলেরা অল্পতেই রেগে যাচ্ছিল। ঠেলাঠেলির কারণে হাতাহাতিও হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে আমরা হিমশিম খেয়েছি।

উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছেন, হাসপাতালে শিক্ষার্থীদের দ্বিতীয় ফাইজারের টিকা দেয়া হচ্ছে। অপরদিকে, হাসপাতালে বুস্টার ডোজ ও করোনা টিকা দেওয়া হচ্ছে।

পার্বতীপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইমাম জাফর বলেন, করোনার টিকা নিতে আসা শিক্ষার্থীদের লাঠিপেটা ঘটনা আপনার কাছ থেকেই শুনলাম। এটা কোনোভাবেই কাম্য নয়। বিষয়টি কেন ঘটল তা খতিয়ে দেখব।

উপজেলা হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ জানুয়ারি শিক্ষার্থীদের টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়। এ পর্যন্ত প্রায় ৩৫ হাজার শিক্ষার্থীকে করোনার প্রথম ডোজ টিকা দেয়া হয়েছে। এবারও উপজেলায় ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সী ৩৫ হাজার শিক্ষার্থীকে টিকা দেয়ার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।

দ্বিতীয় ডোজ টিকাদান কেন্দ্রে গত দুই দিনে ৩ হাজার ৯০০ শিক্ষার্থীকে টিকা দেয়া হয়। আজ ওই কেন্দ্রে টিকা নিতে আসা শিক্ষার্থী সংখ্যা কয়েক হাজার ছাড়িয়ে যায়। এ পর্যন্ত পার্বতীপুর উপজেলায় ২ লাখ ৩০ হাজার করোনার টিকা প্রদান করা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত