কুষ্টিয়ায় ইভটিজিংয়ে বাধা দেওয়ায় এক স্কুলছাত্রকে হত্যা করা হয়। অপরদিকে গাজীপুরে জাল সার্টিফিকেটের তথ্য ফাঁস করার হুমকি দিয়ে চাঁদা দাবি করায় সহকর্মী হাতে নিরাপত্তা কর্মী খুন হন। এ দু’টি হত্যাকাণ্ডের মূল হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ- সিআইডি। ঘটনার সঙ্গে জড়িত দুই মূল হোতাকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে সিআইডি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (এসএসপি) মুক্তা ধর এসব তথ্য জানান।
স্কুলছাত্র দিদারুল খুন
ইভটিজিংয়ে বাধা দেয়ায় স্কুলছাত্র দিদারুল ইসলাম (১৬) নির্মমভাবে খুন করা হয়। ঘটনার মূল হোতা আলী ওরফে বাবু বিশ্বাসকে (২১) গ্রেপ্তার করেছে সিআইডি। সোমবার রাতে ফেনী সদরের ডাক্তারপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (এসএসপি) মুক্তা ধর এ তথ্য জানিয়ে বলেন, বখাটে মামুনুর রশিদ ওরফে আশিক (১৮) স্কুলছাত্রীদের রাস্তাঘাটে ইভটিজিং করে নিয়মিত। এ কারণে ছাত্রীরা চলার পথে আতঙ্কিত থাকে।
আশিকের ইভটিজিং মানতে পারেনি খোরশেদপুর মাধ্যমিক উচ্চ বিদ্যালয়ের ভকেশনালের দশম শ্রেণির ছাত্র দিদারুল ইসলাম। সে এলাকার সচেতন ব্যক্তিদের নিয়ে যেকোনো অন্যায়ের প্রতিবাদ করত। এরই ধারাবাহিকতায় মেয়েদের ইভটিজিং করার প্রতিবাদসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বখাটে আশিকের সঙ্গে স্কুলছাত্র দিদারের সঙ্গে শত্রুতা শুরু হয়। এই কারণে আশিকের বড় ভাই আলী ওরফে বাবু বিশ্বাস তার পক্ষ নেন। একপর্যায়ে ছোট ভাই আশিকের অন্যায় কাজে বাধা না দিয়ে তার পক্ষ নিয়ে গত ২৬ জানুয়ারি রাত সাড়ে ৯টার দিকে প্রতিবাদী স্কুলছাত্র দিদারকে ডেকে নিয়ে যায় বাবু বিশ্বাস। পরে বাবুর মালিকানাধীন ‘বাবু ফার্নিচার’ নামের দোকানে ডেকে নিয়ে দিদারকে নির্মমভাবে হত্যা করে পালিয়ে যায়।
বিশেষ পুলিশ সুপার মুক্তা ধর আরও জানান, ঘটনার পর নিহতের বাবা আবুল হোসেন কুমারখালী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। সিআইডির এলআইসি শাখা ছায়া তদন্ত শুরু করে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার রাতে ফেনীর ডাক্তারপাড়া এলাকা অভিযান চালিয়ে মূল হোতা আলী ওরফে বাবু বিশ্বাসকে গ্রেপ্তার করা হয়। বাবু হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করে ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরে।
জাল সার্টিফিকেটের তথ্য ফাঁস করার কথা বলায় গাজীপুরে নিরাপত্তাকর্মী খুন
গাজীপুরে জাল সার্টিফিকেটের তথ্য ফাঁস করার হুমকি দিয়ে চাঁদা দাবি করায় সহকর্মী হাতে জীবন চন্দ্র বিশ্বাস (২৮) নামে এক নিরাপত্তা কর্মী খুন হন। ঘটনার পর মূল হোতা নিহতের সহকর্মী রবিউল আলম হৃদয়কে (২৬) গ্রেপ্তার করে সিআইডি।
সিআইডি জানায়, বড় ভাইয়ের সনদ দিয়ে চাকরি নেন হৃদয়। বিষয়টি জানতে পেরে হৃদয়ের সহকর্মী জীবন ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। অন্যথায় বিষয়টি ফাঁস করে দেয়ার হুমকি দেয়া হয়। এ নিয়ে বাগ্বিতণ্ডার জেরে জীবনকে খুন করা হয় বলে জানান বিশেষ পুলিশ সুপার মুক্তা ধর।
তিনি বলেন, গত ১০ ফেব্রুয়ারি গাজীপুরের শ্রীপুর উত্তরপাড়ায় জীবনকে হত্যা করা হয়। তিনি আশুলিয়ার ‘এজিস সিকিউরিটি ফোর্স’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহের তারাকান্দায়।
থানায় মামলা হওয়ার পর ঘটনার ছায়া তদন্ত করে সিআইডি। তথ্যের ভিত্তিতে ২১ ফেব্রুয়ারি রাতে নেত্রকোনা থেকে হত্যাকারী রবিউল আলম হৃদয়কে গ্রেপ্তার করা হয়।
হৃদয় জানিয়েছেন, তিনি তার বড় ভাই শফিকুল আলম জয়ের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা পাসের সনদপত্র দিয়ে চাকরি নেন। প্রতিষ্ঠানটিতে ২১ দিনের সিকিউরিটি গার্ডের কোর্স করে ময়মনসিংহের ভালুকা থানাধীন ‘দ্য অ্যাপারেলস ইস্ট জামিরদিয়া’ নামের পোশাক কারখানায় গার্ড হিসেবে প্রায় ৮ মাস কাজ করেন। পরে গাজীপুরের শ্রী পুরের ‘হাজী বাড়ী প্লান্ট’ নামে একটি হাঁস-মুরগির খামারের সিকিউরিটি গার্ড হিসেবে প্রায় ২ মাস কাজ করেন। খামারেই জীবনের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। জীবনের কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন, না হলে সে জাল সার্টিফিকেটের কথা জানিয়ে দেয়ার কথা বলেন। এতে উভয়ের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তাকে ছুরি মেরে হত্যা করা হয়।
