বগুড়ায় ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির পরদিন নিখোঁজ দুই নৈশপ্রহরীর মরদেহ তাদের কর্মস্থলের সেপটিক ট্যাংক থেকে উদ্ধার হয়েছে।
শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে পুলিশ তাদের মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহতরা হলেন- বগুড়া সদর উপজেলার বড় সরলপুর গ্রামের মৃত আব্দুল জব্বারের ছেলে আব্দুল হান্নান (৪৮) ও শিবগঞ্জ উপজেলার প্রতাপবাজু গ্রামের মৃত হাসু আলীর ছেলে সামছুল হক (৬০)।
নিহত দুজনই বগুড়া শহরের বিসিক শিল্পনগরীর ‘মাসু অ্যান্ড সন্স’ নামের ঢালাই ফ্যাক্টরির নৈশপ্রহরী ছিলেন।
নিহত হান্নানের চাচা নুরুল ইসলাম জানান, বুধবার সন্ধ্যার পর বাড়ি থেকে কর্মস্থলে যায় হান্নান। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে হান্নানের মোবাইল ফোন থেকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি তার স্ত্রী হিরা খাতুনকে ফোন করেন। এ সময় তার স্বামীকে ফিরে পেতে হলে ৫ লাখ টাকা দাবি করা হয়। এ দিকে সকাল ১০টার পরও হান্নান বাড়ি না ফিরলে তার স্ত্রী স্বামীর কর্মস্থলে যান। সেখানে জানতে পারেন তার স্বামীর সঙ্গে কর্মরত অপর নৈশ প্রহরী সামছুল হককেও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
‘অজ্ঞাত ব্যক্তিরা হান্নানের স্ত্রীর মোবাইলে আবার কখনো ফ্যাক্টরির পরিচালক মোস্তফা আলীমুর রাজীবের কাছে ফোন করে ৫ লাখ টাকা দাবি করতে থাকেন। বিষয়টি থানা-পুলিশকে বৃহস্পতিবারেই জানানো হয়েছে।’
এদিকে শুক্রবার দুপুরের পর ফ্যাক্টরি কর্তৃপক্ষ রফিকুল নামের সাবেক এক নৈশ প্রহরীকে ডেকে এনে ফ্যাক্টরির মধ্যে তল্লাশি করতে বলা হয়েছে। বিকেলের দিকে তল্লাশিকালে ফ্যাক্টরির পেছনে সেপটিক ট্যাংকের ভেতরে দুজনের মরদেহের সন্ধান পাওয়া যায়।
পরে থানায় সংবাদ দেয়া হলে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন এবং মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়।
নিহত হান্নানের স্ত্রী হিরা খাতুন বলেন, অজ্ঞাত ব্যক্তি ফোন করে বলেছে তোমার স্বামীর সঙ্গে কোনো শত্রুতা নেই, ফ্যাক্টরির মালিকের জন্য তোমার স্বামীকে আটকানো হয়েছে। ফ্যাক্টরির মালিক ৫ লাখ টাকা দিলে তোমার স্বামীকে ছেড়ে দেয়া হবে।
বগুড়া সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক জাহিদুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি রহস্যজনক। বাইরে থেকে কারখানার ভেতরে প্রবেশের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া ফ্যাক্টরির ভেতরে কোনো মালামাল খোয়া যায়নি। রহস্য উদ্ঘাটনের জন্য পুলিশের একাধিক দল কাজ শুরু করেছে। লাশ ময়নাতদন্ত শেষে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
