নারায়ণগঞ্জের নিতাইগঞ্জে মা ও অন্তঃসত্ত্বা মেয়ে খুনের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। কি কারণে অপরিচিত যুবক জোবায়ের তাদের হত্যা করেছে তা নিয়ে সন্দিহান পুলিশও।
তবে গ্রেপ্তার জুবায়ের পুলিশকে জানিয়েছেন, টাকার জন্যই তিনি মা-মেয়েকে খুন করেছেন। তারা কেউই তার পূর্ব পরিচিত না।
মঙ্গলবার দুপুরে নিতাইগঞ্জের ডালপট্টি ‘ মাত্রসদন’ নামে ছয়তলা বিল্ডিং এ প্রবেশ করে সব কটি ফ্ল্যাটে দরজা নক করেন জোবায়ের। কেউ দরজা না খুললেও রুমা চক্রবর্তী (৪৬) দরজা খোলামাত্রই তাকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে বিছানার উপর ফেলে দেন। এ সময় অন্তঃসত্ত্বা মেয়ে রিতু চক্রবর্তী (২২) মাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে তকেও ছুরিকাঘাত করে হত্যা করেন। পাশের রুম থেকে পুত্রবধূ ফারজানা বের হলে তাকেও হত্যার চেষ্টা করেন।
গ্রেপ্তার জোবায়ের পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন যে, ওই পরিবারের সঙ্গে তার কোনো পূর্ব পরিচয় ছিল না। তিনি ব্যবসায়ী ছিলেন। করোনার কারণে ব্যবসায় ক্ষতি হওয়ার পর থেকে তিনি বিষণ্নতায় ভুগছিলেন। টাকার জন্যই তিনি ওই ফ্ল্যাটে মা-মেয়েকে কুপিয়ে হত্যা করেছে।
মঙ্গলবার দুপুর তিনটার দিকে মা রুমা চক্রবর্তী ও মেয়ে ঋতু চক্রবর্তীকে হত্যার পর জুবায়ের তাদের পুত্রবধূ ফারজানাকে হত্যা করতে বটি নিয়ে হামলা চালায়। তখন পুত্রবধূ তার হাতের বটি কেড়ে নিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে ভবনের নিচে গিয়ে ডাকাত বলে আর্তচিৎকার করে। এ সময় ব্যবসায়ীরা ওই ভবনের প্রধান গেইট বন্ধ করে দিলে হত্যাকারী জুবায়ের আটকা পড়েন। পরে স্থানীয়রা ৯৯৯ নম্বরে পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে মা-মেয়ের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে।
এ সময় পুলিশ রক্তমাখা গ্লাভস পড়া অবস্থায় জুবায়েরকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় ওই ফ্ল্যাট থেকে একাধিক হ্যান্ড গ্লাভস, ধারালো তিনটি ছুরি, একটি বটি উদ্ধার করা হয়।
জুবায়ের হত্যার কথা স্বীকার করে পুলিশকে জানিয়েছেন, টাকার জন্যই তাদের হত্যা করেছে। সে একাই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটায়।
নিহত রুমা চক্রবর্তীর স্বামী রামপ্রসাদ চক্রবর্তী জানিয়েছেন, জুবায়েরকে তিনি চিনেন না। স্ত্রী ও কন্যাকে তিনি কেন খুন করেছেন সেই সম্পর্কেও কোনো ধারণা দিতে পারছেন না।
তিনি বলেন, ‘আমি ভাবতেও পারি নাই এইরকম কিছু আমার পরিবারের সঙ্গে হবে। আমি গরিব মানুষ। কারও সঙ্গে কোনো শত্রুতা নাই। আমি এর সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করি।’
তার দুই সন্তান ঋতু ও হৃদয় চক্রবর্তী। হৃদয় নগরীর মাসদাইর এলাকার একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করেন। সম্প্রতি তিনি ফারজানা নামের এক মুসলিম তরুণীকে বিয়ে করেছেন। বিয়ের পর হৃদয় ধর্মান্তরিতও হয়েছেন। ঘটনার সময় তার পুত্রবধূ ফারজানা ওই ফ্ল্যাটে ছিলেন। তবে তিনি আহত হননি। তার চিৎকারেই স্থানীয় লোকজন পুলিশে খবর দেন।
নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) আমীর খসরু জানিয়েছেন, আসামি জুবায়ের স্বীকার করে বলেছে টাকার জন্যই তিনি মা-মেয়েকে হত্যা করেছেন।
বুধবার দুপুরে জুবায়েরকে রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে হত্যার আসল রহস্য বেরিয়ে আসবে বলে তিনি যোগ করেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গ্রেপ্তার হওয়া যুবক জুবায়ের শহরের পাইকপাড়া এলাকার আলাউদ্দিনের ছেলে। তিনি পেশায় ব্যবসায়ী।
নিহত রুমা চক্রবর্তীর স্বামী রামপ্রসাদ চক্রবর্তীর ডালপট্টি এলাকায় একটি পাইকারি ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজারের চাকরি করতেন এবং মেয়ে নিহত ঋতু চক্রবর্তী চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী শ্যামল ভট্টাচার্যের স্ত্রী। ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা হওয়ায় বাবার বাড়িতে এসেছেন তিনি।
জোবায়েরের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি তিনি উন্মাদের মতো আচরণ করতেন।
পাইকপাড়া এলাকাবাসী জানায়, জোবায়ের এমন কাণ্ড করতে পারে এটা বিশ্বাসই হচ্ছে না তাদের।
