জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন খানকে (৪৬) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে শহরের কলেজপাড়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
নোয়াখালী জেলা শহরের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টের সামনের সড়কে পুলিশের কর্তব্য কাজে বাধা, পুলিশের ওপর হামলা, ককটেল নিক্ষেপের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে নোয়াখালী প্রেসক্লাব চত্বরে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে যাওয়ার পথে মিছিল থেকে পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে বিএনপির ২৫ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে আরও ১০০-১৫০ জন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে থানায় মামলা করে পুলিশ।
সুধারাম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোজাফফর আলী বাদী হয়ে গতকাল বুধবার রাতে এ মামলা করেন।
পুলিশ জানায়, বুধবার বিকেল সোয়া ৪টার দিকে নোয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবনের সামনের রাস্তায় বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গসংগঠন যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মী রাস্তায় অবরোধ করে যানবাহন চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে সরকার বিরোধী উসকানিমূলক স্লোগান দেয়। এতে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হয়। পরবর্তীতে সুধারাম থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে রাস্তায় যান চলাচল স্বাভাবিক করতে বলে। কিন্তু বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা পুলিশের কথা না শুনে পুলিশের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে লাঠিসোঁটা নিয়ে আক্রমণ করে এবং ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। হামলায় ৩ পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
এ ঘটনায় পুলিশ মামলার এজাহারভুক্ত আসামি জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন খানকে গতকাল দিবাগত রাত তিনটার দিকে শহরের কলেজপাড়া এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে।
আজ দুপুরে তাকে নোয়াখালীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হবে।
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুর রহমান নুরুল আমিন খানের গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মূলত দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে আয়োজিত গতকালের অনুষ্ঠানে মিছিল নিয়ে আসাটাই তার অপরাধ।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, পুলিশ এখন কাউকে গ্রেপ্তার করতে কোনো কারণ লাগে না। সে ঘটনার সঙ্গে জড়িতই ছিল না। সে ছিল সভামঞ্চে অথচ তাকে গ্রেপ্তার করা হলো।
সুধারাম থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ারুল ইসলাম জানান, গতকাল বিকেলে বিএনপির মিছিল থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনায় একজন এসআইসহ তিন পুলিশ সদস্য ইটের আঘাতে আহত হন।
