মাদারীপুরের কালকিনিতে বন্ধুর শারীরিক সম্পর্কের ভিডিও ধারণা করে মানসিকভাবে চাপ দেওয়ায় খুন হন জহিরুল ইসলাম।
বৃহস্পতিবার বেলা ১২টায় জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলনে কক্ষে প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান মাদারীপুর জেলা পুলিশ সুপার গোলাম মোস্তফা রাসেল।
গ্রেপ্তারকৃত আসামি কালকিনি উপজেলার মহুরদ্দিন চর এলাকার সালাম হাওলাদের ছেলে ও নিহত জহিরুল ইসলামের বন্ধু।
পুলিশ সুপার বলেন, জহিরুল ও নুরুজ্জামান খুব ভালো বন্ধু ছিল এবং নুরুজ্জামান বিভিন্ন সময়ে জহিরুলের বাসায় যেতো ও একসাথে রাত কাটাতো। তারা বিভিন্ন সময়ে যৌনকর্মীদের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করত। একসময় এক যৌনকর্মীর সঙ্গে নুরুজ্জামানের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও তার মুঠোফোনে ধারণ করে জহিরুল। সেই ভিডিও দিয়ে নুরুজ্জামানকে ব্ল্যাকমেলিং করায় একপর্যায়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে জহিরুলকে হত্যা করার পরিকল্পনা করে।
ঘটনার দিন ২৩ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে নুরুজ্জামান জহিরুলের বাসায় আসে। আনুমানিক রাত ৪ থেকে সাড়ে ৪টার দিকে ঘুমিয়ে থাকা জহিরুলকে দা দিয়ে পেছন থেকে ঘাড়ে কোপ দেয়। বেশ কয়েকটি কোপ দিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করার পরে পালিয়ে যায় নুরুজ্জামান।
একই দিনে ঘটনায় নিহতের ভাই শাহীন সরদার বাদী হয়ে কালকিনি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
ঘটনার পরে জেলা গোয়েন্দা শাখা মাদারীপুর ও কালকিনি থানা-পুলিশ তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে গতকাল (২ মার্চ) ঢাকা শ্যামপুর পুলিশের সহায়তায় শ্যামপুর থানার এলাকা হতে নুরুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে। এবং তার কাছ থেকে জহিরুলের ব্যবহার করা মুঠোফোনটি উদ্ধার করি।
কালকিনি থানার ওসি ইশতিয়াক আশফাক রাসেল বলেন, আমরা ঘটনার পরেই চাঞ্চল্যকর এই হত্যার তদন্তে নামি। একটা ব্যাপার খেয়াল করি জহিরুল খুন হওয়ার পরে তার বন্ধু নুরুজ্জামান পলাতক ছিল। যে কিনা ঘটনার আগের দিনও জহিরুলের সঙ্গে সময় কাটিয়েছিল। পরবর্তীতে আমরা ঘটনার সঙ্গে নুরুজ্জামানের সম্পৃক্ততা পাই। তাকে গ্রেপ্তার করার পরে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে জহিরুলকে হত্যার কথা স্বীকার করে।
মাদারীপুর পুলিশ সুপার গোলাম মোস্তফা রাসেল বলেন, স্কুলছাত্র জহিরুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডে তার বন্ধু নুরুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করার পরে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে হত্যার কথা স্বীকার করে। আমরা আজ তাকে আদালতের প্রেরণ করবো।
উল্লেখ্য, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে কালকিনি উপজেলার পূর্ব এনায়েতনগর ইউনিয়নের মহরুদ্দিন চর এলাকায় তার নিজ বাড়িতে খুন হয় কাতার প্রবাসী বারেক সরদারের ছেলে জহিরুল সরদার। পুলিশ সকালে খবর পেয়ে জহিরুলের মরদেহ উদ্ধার করে।
