ভোজ্যতেল ও গ্যাসসহ নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির জন্য সরকারের দুর্নীতি ও অযোগ্যতাকে দায়ী করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
রবিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল আয়োজিত ছাত্র সমাবেশে তিনি এমনটাই দাবি করেছেন।
দ্রব্যমূল্যের অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম সর্বসাধারণের ক্রয় ক্ষমতায় নাগালে রাখার দাবিতে এ সমাবেশ আয়োজন করে ছাত্রদল।
এতে বিএনপি মহাসচিব বলেন, মূল্যবৃদ্ধির পেছনে একটি মাত্র কারণ, সেটা হচ্ছে- আওয়ামী লীগের মন্ত্রী ও নেতাদের দুর্নীতি। আজকে তারা দুর্নীতি করে ফুলে-ফেঁপে বড় হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘সয়াবিন তেলের দাম বাড়ছে কেন? কারণ সয়াবিন তেলের যারা ব্যবসা করে, তারা বেশির ভাগই হচ্ছে আওয়ামী লীগের ব্যবসায়ী। আজকে এই গ্যাসের বাড়ছে কেন? কারণ যে এলপিজি গ্যাস বিদেশ থেকে আমদানি করে নিয়ে আসছে, তাদের (সরকার) একমাত্র শিল্প উপদেষ্টা এর সাথে জড়িত।’
‘সুতরাং মূল্যবৃদ্ধির একটাই কারণ, সেটা হচ্ছে- এই সরকারের দুর্নীতি, দুর্নীতি এবং দুর্নীতি। সেই সঙ্গে তাদের অযোগ্যতা, অপদার্থতা’ অভিযোগ মির্জা ফখরুলের।
এ সময় তিনি বলেন, ‘যারা বিনাভোটে নির্বাচিত হয়ে শুধু রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে আজকে টিকে আছে, তাদেরকে সরাতে হবে। আর একটা গভীর চক্রান্ত আছে। সেই চক্রান্ত হচ্ছে- এ দেশের মানুষকে তাদের অধিকার থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত রেখে তারা একটা রাজতন্ত্র চালাবে।’
এদিকে সমাবেশে দুপুর ১টায় প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপি মহাসচিব বক্তব্য শুরু করার পর পরই মঞ্চের সামনে ছাত্রদলের দুই কর্মীর মধ্যে মারামারির পরিস্থিতি তৈরি হয়। প্রায় দুই মিনিট মঞ্চের সামনে বিশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দেখা গেছে।
পরে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হলে মির্জা ফখরুল বক্তব্য শুরু করেন। বক্তব্যের শুরুতে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘এত সুশৃঙ্খল সমাবেশ! কিন্তু তোমরা তোমাদের নিজেদের ধৈর্য হারিয়ে ফেললে, সেটা এই দলের জন্য ভালো হবে না, বসো।’
এর আগে সমাবেশকে কেন্দ্র করে সকাল ৯টা থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা প্রেসক্লাবের সামনে সমবেত হতে শুরু করেন। মিছিল থেকে তারা খালেদা জিয়ার মুক্তিসহ সরকার বিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দেন।
ছাত্রদল সভাপতি ফজলুর রহমান খোকনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামলের সঞ্চালনায় সমাবেশে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, যুগ্ম-মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, বিশেষ সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন, প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক এবিএম মোশাররফ হোসেন, তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল, নির্বাহী কমিটির সদস্য নাজিম উদ্দিন আলম, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েল প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
