বীর মুক্তিযোদ্ধা শফিউদ্দিন হত্যা মামলা মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই খুনির ফাঁসি মঙ্গলবার রাতে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে কার্যকর হবে।
শিপন হাওলাদার ও নাইমুল ইসলাম ইমন নামের ওই দুই ফাঁসির আসামি বর্তমানে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারের কনডেম সেলে রয়েছেন।
চট্টগ্রামের রেলওয়ে বস্তিতে মদ, জুয়া ও অবৈধ দখলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় শফিউদ্দিন নামে এক বীর মুক্তিযোদ্ধাকে নিজ বাসায় গুলি করে এবং কুপিয়ে হত্যার ১৮ বছর পর ওই দুই খুনির ফাঁসি কার্যকর হচ্ছে।
সোমবার কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার মো. আসাদুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে দেশ রূপান্তরকে বলেন, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি শিপন হাওলাদার ও নাইমুল ইসলাম ইমনের ফাঁসি কার্যকরের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে তাদের রায় কার্যকর হতে পারে।
তিনি বলেন, এর আগে তাদের ফাঁসির রায় সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ বহাল রাখার পর রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন করেছিলেন। কয়েক দিন আগে সে আবেদন খারিজ হওয়ার চিঠি আমাদের কাছে এসে পৌঁছেছে। এরপরই বিধি অনুসারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতির প্রেক্ষিতে তাদের ফাঁসি কার্যকর করা হচ্ছে।
কারা সূত্র জানায়, সুপ্রিম কোর্টে তাদের ফাঁসির রায় বহাল থাকায় এবং রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন খারিজ হয়ে যাওয়ায় তাদের রায় কার্যকরের পদক্ষেপ গ্রহণ করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এর আগে সুপ্রিম কোর্টে তাদের ফাঁসির সাজা বহাল রাখার চিঠি গত ১৬ ডিসেম্বর কুমিল্লা কারাগারে এসে পৌঁছায়। তারপর রাষ্ট্রপতির প্রাণভিক্ষার আবেদন খারিজ হয়ে যাওয়ার চিঠিও একই কারাগারে এসে পৌঁছায়। এরপরই তাদের ফাঁসি কার্যকরে প্রস্তুতি শুরু করে কারা কর্তৃপক্ষ।
শিপন হাওলাদার চট্টগ্রাম নগরীর খুলশীর এলাকার দক্ষিণ আমবাগানের মৃত ইউনুছ হাওলাদারের ছেলে। তার গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুরের নড়িয়ার নন্দন সদর এলাকায়। আরেক খুনি নাইমুল ইসলাম ইমন চট্টগ্রাম নগরীর লালখান বাজার ডেবারপাড় এলাকার ঈদুল মিয়া সরকারের ছেলে। তার গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার রতনপুর এলাকায়।
মামলার অভিযোগে জানা যায়, চট্টগ্রাম নগরীর খুলশীর উত্তর আমবাগান রেলওয়ে কোয়ার্টারের ৩৬/এ বাসায় বাস করতেন বীর মুক্তিযোদ্ধা শফিউদ্দিন আহমেদ। তিনি বাংলাদেশ রেলওয়ের সহকারী প্রকৌশলী-১ চট্টগ্রাম কার্যালয়ের উচ্চমান সহকারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পাশাপাশি তিনি ছিলেন স্থানীয় রেলওয়ে আমবাগান এলাকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক। জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এলাকায় সন্ত্রাস, মদ, জুয়া ও রেলওয়ের অবৈধ সম্পদ দখলের প্রতিবাদে সোচ্চার ভূমিকা পালন করতেন তিনি। সে কারণে ওই সময় রেলওয়ের জায়গা থেকে চার দফায় অবৈধ বস্তি ও কলোনি উচ্ছেদ করতে বাধ্য হয় প্রশাসন। এ ঘটনায় স্থানীয় সন্ত্রাসীরা শফিউদ্দিনের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। এর জের ধরে ২০০৩ সালের ১৪ জুন বাসায় ঢুকে গুলি করে শফিউদ্দিনকে হত্যা করা হয়। গুলি তার ডান কাঁধের এক পাশ দিয়ে ঢুকে অন্য পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়। বাথরুমে আত্মগোপন করলেও সেখান থেকে টেনে বের করে এনে গুলি করে খুনি ইমন। ইমন তার হাতে থাকা পিস্তলের বাঁট দিয়ে শফিউদ্দিনের মাথায় একাধিক আঘাত করে মাথা থেঁতলে দেয়। গুলি ও ছুরিকাঘাত করে তার মৃত্যু নিশ্চিত করে বোমা ফাটিয়ে এলাকা ছাড়ে খুনিরা।
এ ঘটনায় ভিকটিমের স্ত্রী মাহমুদা বেগম বাদী হয়ে খুলশী থানায় হত্যা মামলা করেন। ২০০৪ সালে চট্টগ্রাম বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল ২৩ জনের সাক্ষ্য নিয়ে এ হত্যা মামলায় দুই খুনি শিপন ও ইমনকে ফাঁসি, সাত আসামিকে যাবজ্জীবন এবং চারজনকে খালাস দেন।
