নারী কর্মকর্তাকে থাপড়িয়ে এলাকাছাড়ার হুমকি এমপির

আপডেট : ০৯ মার্চ ২০২২, ০১:৫৮ এএম

নারী কর্মকর্তাকে থাপ্পড় দিয়ে এলাকাছাড়া করতে চাওয়ার হুমকির অভিযোগ উঠেছে পাবনা-সিরাজগঞ্জ সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) নাদিরা ইয়াসমিন জলির বিরুদ্ধে। আন্তর্জাতিক নারী দিবসের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানাতে দেরি হওয়ায় গত সোমবার সকালে এমপি জলি এমন কাণ্ড ঘটিয়েছেন বলে জানিয়েছেন পাবনা জেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা কানিজ আইরিন জাহান। গতকাল মঙ্গলবার সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে এ বিষয়ে অভিযোগ করেন তিনি।

অবশ্য এর আগেই কানিজ আইরিন জাহানকে এলাকাছাড়া করার হুমকি দিয়ে তার সঙ্গে নাদিরা ইয়াসমিন জলির কথোপকথনের একটি অডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা জানান, আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তর আয়োজিত অনুষ্ঠানে সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি নাদিরা ইয়াসমিন জলিকে প্রধান অতিথি করা হয়েছিল। দাপ্তরিক ব্যস্ততার কারণে তাকে আমন্ত্রণপত্র পাঠাতে একটু দেরি হয়। পরে এমপি জলি চিঠি কেন পাননি জানতে চেয়ে গত সোমবার বেলা ১১টায় পাবনা সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান শামসুন্নাহার রেখা তাকে ফোন করেন জানিয়ে কানিজ আইরিন জাহান বলেন, ‘চিঠি দেওয়া হয়নি কেন তা তিনি জানতে চান। আমি তাকে চিঠি পাঠানো হচ্ছে জানাই। এ সময় সংসদ সদস্য নাদিরা ইয়াসমিন জলি ফোন নিয়ে আমাকে গালিগালাজ করতে শুরু করেন। একপর্যায়ে আমাকে থাপ্পড় দিয়ে পাবনা ছাড়া করবেন বলে ধমক দেন। আমাকে দুর্নীতিবাজ বলে গালি দিয়ে ১০ মিনিটের মধ্যে পাবনা থেকে তাড়াতে পারেন বলেও জানান।’

এমপি জলি ও মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তার কথোপকথনের ভাইরাল হওয়া অডিও রেকর্ডে শোনা যায়, প্রথমে ভাইস চেয়ারম্যান শামসুন্নাহার রেখা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তাকে ফোন দিয়ে এমপি জলিকে কেন আমন্ত্রণ জানানো হয়নি জানতে চান। মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে জানালে বাসায় কেন লোক পাঠানো হয়নি বা ফোন করা হয়নি তা জানতে চান। একপর্যায়ে নাদিরা ইয়াসমিন জলি ফোন কেড়ে নিয়ে বলেন, ‘এই আপনি কী হয়েছেন? আপনি নারী হয়ে নারীদের সম্মান করেন না। আপনাকে এক থাপ্পড় মেরে পাবনা ছাড়া করব কিন্তু, বেশি স্পর্ধা হয়েছে, সবকিছু কি আপনার লিজ দেওয়া হয়েছে? মেয়েদের সাথে খারাপ ব্যবহার করেন, আপনাকে কী করে পাবনা ছাড়া করতে হয় তার ব্যবস্থা আমি করছি। আপনাকে পাবনা ছাড়া করা মাত্র ১০ মিনিটের বিষয়।’ এসব কথা বলে গালিগালাজ করতে থাকেন এমপি জলি।

কানিজ ফাতেমা গতকাল বলেন, ‘আমার কাজে অনিয়ম, ভুলত্রুটি পেলে তিনি (এমপি জলি) বকা দিতে পারেন, প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে সুপারিশ করতে পারেন। কিন্তু থাপ্পড় দেওয়ার কথা বলতে পারেন না। আমার বাবা-মাও কখনো আমাকে থাপ্পড় দেননি। অথচ নারী দিবসে আমাকে এমন একটি পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হলো। আমি এখানে সরকারের দায়িত্ব পালন করতে এসেছি, নারী দিবসের দিনে থাপ্পড় খেতে নয়। ঘটনার পর থেকে আমি শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছি।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে এমপি নাদিরা ইয়াসমিন জলি মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তার সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের কথা স্বীকার করেন। তবে মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তাকে দুর্নীতিপরায়ণ ও স্বেচ্ছাচারী অভিযোগ করে বলেন, ‘মহিলা এমপি হওয়া সত্ত্বেও নারী দিবসের অনুষ্ঠানে মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা আমাকে আমন্ত্রণ জানানোর প্রয়োজন মনে করেননি। নারী সমাজের প্রতিনিধিকে অপমান, অবজ্ঞা, তাচ্ছিল্য করে তিনি সমগ্র নারী জাতির অবমাননা করেছেন।’

মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তাকে থাপ্পড় দিতে চেয়েছেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘উনি একজন প্রোগ্রাম অফিসার, অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে জেলার দায়িত্বে রয়েছেন। তিনি জেলায় দুর্নীতির রামরাজত্ব কায়েম করেছেন। আমি তাকে সংশোধন হতে বারবার বলেছি। কিন্তু তার অপকর্ম অব্যাহত রেখেছেন। তাকে কয়েকবার ফোন দেওয়ার পরও তিনি আমার ফোন ধরেননি। পরে অন্য ফোন রিসিভ করায় আমি উত্তেজিত হয়ে পড়েছিলাম। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে সুপারিশ করব।’

নারী দিবসের অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করা পাবনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (স্থানীয় সরকার) মোখলেসুর রহমান বলেন, ‘মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা মৌখিকভাবে অভিযোগ করেছেন। এ ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্র্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত