মাত্র ৪ ঘণ্টার ব্যবধানে পাল্টে গেল ২০ বছর বয়সী প্রসূতি লতা বেগমের রক্তের গ্রুপ! ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর ডায়াগনস্টিক সেন্টারের এই ভুল নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা সমালোচনা। এই ঘটনা ঘটেছে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার পাটগাতী বাস স্ট্যান্ডের ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারে।
প্রসূতির স্বজনেরা জানান, উপজেলার বর্নি ইউনিয়নের সিঙ্গীপাড়া গ্রামের ২০ বছর বয়সী লতার গর্ভপাতের ফলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হলে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। তখন রক্তশূন্যতা দেখা দিলে ডাক্তার প্রসূতির রক্তের গ্রুপ পরীক্ষা করে রক্ত জোগাড় করতে বলেন।
বুধবার দুপুর ৩টায় ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড কনসালটেশন সেন্টারে রক্ত পরীক্ষা করতে দেওয়া হলে তার রক্তের গ্রুপ ‘বি’ পজিটিভ আসে। অনেক খোঁজাখুঁজির পর সন্ধ্যা ৭টায় দুজন শিক্ষার্থী ‘বি’ পজিটিভ’ রক্ত দিতে আসে। তখন পুনরায় রক্ত নিয়ে ক্রস ম্যাচিংয়ের সময় লতা বেগমের রক্তের গ্রুপ আসে ‘এ’ পজিটিভ। দুটি রিপোর্টই দেয় ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট মারিয়াম খানম।
প্রসূতির স্বামী ইসলাম মোল্লা বলেন, রক্তের গ্রুপ দুই রকমের আসায় আমরা দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়ে যাই। তাকে রক্ত দেওয়ায় বিলম্ব হতে থাকে। হঠাৎ করে ‘এ’ পজিটিভ রক্ত কোথায় পাবো? পরে স্থানীয় একজন সংবাদকর্মী এক ব্যাগ ‘এ পজিটিভ’ রক্ত দেন। এই ভুলের কারণে অনেক বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারত। অনভিজ্ঞ লোকজন নিয়োগ দিয়ে উপজেলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো কয়েকগুণ বেশি টাকা নিচ্ছে। এ ছাড়া রোগীদের জীবন-মরণ নিয়েও প্রশ্ন থেকে যায়।
এ বিষয়ে ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট মারিয়াম খানমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে ঐ ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পরিচালক কবির শেখ বলেন, হয়তো ক্রস ম্যাচিংয়ের সময় তাড়াহুড়োয় অন্য রোগীর সঙ্গে রক্তের পরিবর্তন হয়েছে। তাই এ রকম ভুল হয়েছে। পরবর্তীতে আমরা বিষয়টি মিটিয়ে ফেলেছি।
গোপালগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. নিয়াজ মোহাম্মদ বলেন, এ ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। এমন ভুলের জন্য প্রাণহানির ঘটনাও ঘটতে পারত। যে পরীক্ষা করেছেন তিনি সনদপ্রাপ্ত কিনা সেটা যাচাই করে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
