পূর্ব বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে পাবনার সুজানগর পৌরসভার কর্মচারী আল আমিন (৩২) নিহত হয়েছেন। এ সময় গুরুতর আহত হয়েছেন আল আমিনের সহোদর ভাই রজব আলী।
সোমবার দুপুরে সদর উপজেলার আতাইকুলা থানার সাদুল্লাপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত আল আমিন সুজানগর পৌর এলাকার রাধানগর গ্রামের মৃত ছাত্তার প্রামাণিকের ছেলে ও পৌরসভার টিকাদানকারী পদে কর্মরত ছিলেন।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, রজব আলী ও আল আমিনের সঙ্গে জমি জমা নিয়ে সুজানগর পৌরসভার সাবেক মেয়র তোফাজ্জল হোসেন তোফা ও তার ভাই পৌর যুবলীগের সম্পাদক জুয়েল রানার দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। এর আগে তাদের মধ্যে মারামারির ঘটনায় মামলাও হয়েছে।
সোমবার দুপুরে পাবনা আদালতে ওই মামলার শুনানি শেষে বাড়ি ফিরছিলেন আল আমিন ও রজব। পথে সাদুল্ল্যাপুর স্কুলের সামনে তোফা ও জুয়েলের নেতৃত্বে একদল যুবক তাদের ওপর অতর্কিত হামলা করে। এ সময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আল আমিন ও রজবকে কুপিয়ে জখম করে পালিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা।
স্থানীয়রা গুরুতর আহতাবস্থায় তাদের উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে আল আমিনকে মৃত ঘোষণা করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক।
আশঙ্কাজনক অবস্থায় রজব আলীকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
সুজানগর উপজেলা যুবলীগের সভাপতি সরদার রাজু আহমেদ জানান, ‘রজব আলী পৌর আওয়ামী লীগের সদস্য। সাবেক মেয়র তোফা ও তার ভাই জুয়েল এর আগেও তাদের মারপিট, নির্যাতন করেছে। মামলা করায় ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের প্রকাশ্যে হত্যা করা হয়েছে। আমরা এ ঘটনার বিচার চাই।’
অভিযুক্তরা ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছেন। তাদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করেও পাওয়া যায়নি। ফলে তাদের বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
আতাইকুলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জালাল উদ্দিন জানান, ‘পূর্ববিরোধের জেরে হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে। ঘটনায় জড়িতদের আটক করতে পুলিশি অভিযান শুরু হয়েছে। আমরা তদন্ত করছি, বিস্তারিত পরে জানাতে পারব।’
