বরিশাল নগরের রূপাতলী বাসস্ট্যান্ড দখলে নিতে শ্রমিক ইউনিয়নের দুটি কমিটি পাল্টাপাল্টি মহড়া দিয়েছে। বাসস্ট্যান্ডের দুই পাশে পাল্টাপাল্টি অবস্থান নেয় তারা।
এ নিয়ে বাস টার্মিনালজুড়ে থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে রূপাতলী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল থেকে টার্মিনালে অবস্থান নেন তারা।
এদের মধ্যে এক পক্ষ বরিশাল সদর আসনের সংসদ সদস্য ও পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক শামীম অনুসারী এবং অপর পক্ষ বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ অনুসারী বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, গেল কয়েক মাস আগে রূপাতলী বাস, মিনি বাস-কোচ, মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের পাল্টাপাল্টি কমিটি গঠন করা হয়। দু’পক্ষের পাল্টাপাল্টি কমিটি নিয়ে শুরু থেকে শ্রমিকের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। প্রতিমন্ত্রীর অনুসারী সুলতান মাহমুদ সভাপতি এবং শহিদুল ইসলাম টিটু নিজেদের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সাধারণ সম্পাদক দাবি করেন। অপরদিকে বিসিসি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর অনুসারী মহানগর শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক পরিমল চন্দ্র দাস এবং রায়পাশা কড়াপুর ইউপি চেয়ারম্যান শাহারিয়ার রহমান বাবু নিজেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সভাপতি ও সম্পাদক দাবি করেন।
জানা যায়, মঙ্গলবার সকালে মেয়র অনুসারীরা রূপাতলী বাস স্ট্যান্ডে জড়ো হয়ে সভা করেন। এ নিয়ে বাসস্ট্যান্ড এলাকায় দু’পক্ষের উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
বরিশাল মহানগর শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক ও একপক্ষের সভাপতি দাবিদার পরিমল চন্দ্র দাস বলেন, আমরা শ্রমিকদের নিয়ে নিজেরা একটি সভা করেছি। একটি পক্ষ দীর্ঘ দিন ধরে বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অবৈধভাবে চাঁদাবাজি ও শ্রমিকদের নির্যাতন করে আসছিল। এ থেকে শ্রমিকদের পরিত্রাণ দিতে বিসিসি মেয়র একটি নতুন কমিটি করে দেন। সেখানে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় আমি সভাপতি ও শাহারিয়ার বাবুকে সাধারণ সম্পাদক করে একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। সেই কমিটি মঙ্গলবার বাসস্ট্যান্ডে সভা করেছে। এখানে কারো কোনো গ্রুপ নাই।
সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মনির মোল্লা, ২৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান মাসুম, সাধারণ সম্পাদক মীর শহিদুল ইসলাম রনি, ২৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর এম জহিদুর রহমান জাকির প্রমুখ।
অপরদিকে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক শামীম অনুসারী সুলতান মাহমুদ বিসিসি মেয়রের করা কমিটিকে অবৈধ বলে দাবি করেন।
তিনি বলেন, ওরা বাইরে থেকে নথুল্লাবাদ, নৌ শ্রমিক ও সন্ত্রাসীদের নিয়ে বাসস্ট্যান্ডে জড়ো হয়েছে। ওখানে কোনো শ্রমিক নেই। এমনকি যারা নেতা সেজেছেন তারা কখনোই শ্রমিক ছিলেন না।
সুলতান মাহমুদ নিজের কমিটিকে বৈধ দাবি করেন বলেন, দুই কমিটি নিয়ে জামাল নামের একজন শ্রমিক আদালতে মামলা করেছেন। আগামী ৩০ মার্চ ওই মামলার রায় ঘোষণা করা হবে।
জানতে চাইলে শ্রমিক সুমন সিকদার বলেন, আমরা কার্ডধারী শ্রমিক। যেদিন থেকে মেয়র কমিটি করেছে সেদিন থেকে আমরা কাজ করতে পারছি না। আমাদের কাজে নেওয়া হচ্ছে না। বাইরে থেকে লোক এনে তারা কাজ করাচ্ছে।
নেওয়াজ নামের আরেক শ্রমিক বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কমিটি নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে। এর একটা সুষ্ঠু সমাধান না হওয়া পর্যন্ত আমাদের স্বস্তি আসবে না।
ঘটনাস্থলে থাকা বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এম লোকমান হোসেন জানান, স্ট্যান্ডে শ্রমিকদের সভা হয়েছে। এ নিয়ে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনা করা হয়েছে। এটি একটি ব্যস্ততম সড়ক হওয়ায় যাত্রীদের নিরাপত্তার সার্থে পুলিশ কাজ করছে।
এদিকে রূপাতলী বাসস্ট্যান্ড আসা যাত্রীরা জানায়, সকালে স্ট্যান্ডে অনেক ভিড় ছিল। অনেক নেতাকর্মীরা এখানে বক্তব্য দিয়েছে। আমরা টিকিট কাটার জন্য গিয়ে আবার ফিরে এসেছি।
