দেশের সব নাগরিকের হাতে ২০১৬ সালের মধ্যে অত্যাধুনিক পরিচয়পত্র স্মার্ট কার্ড তুলে দেওয়ার কথা থাকলেও চট্টগ্রামের পাঁচ জেলায় এখনো প্রায় সাড়ে ১০ লাখ ভোটার তা পাননি। চট্টগ্রাম অঞ্চলে স্মার্ট কার্ড বিতরণ শুরুর প্রায় পাঁচ বছর পার হলেও কাক্সিক্ষত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারেনি নির্বাচন কমিশনের (ইসি) স্থানীয় কর্মকর্তারা। তারা বলছেন, স্মার্ট কার্ড উৎপাদন ও বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পর্যায়ক্রমে চট্টগ্রামের সব জেলা-উপজেলায় স্মার্ট কার্ড বিতরণ করা হবে। ইতিমধ্যে হাতে পাওয়া স্মার্ট কার্ডের মান নিয়ে অভিযোগ করেছেন অনেক ভোটার। বিতরণ করা এসব স্মার্ট কার্ডে তথ্য ও ছবির ভুল এবং নিম্নমানের ছবির কথা জানিয়েছেন তারা।
আঞ্চলিক নির্বাচন কার্যালয় থেকে পাওয়া তথ্যমতে, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলায় প্রথম ধাপে ৪৪ লাখ ১৭ হাজার ৪৮৩ ভোটারের স্মার্ট কার্ড পাওয়ার কথা থাকলেও পেয়েছেন ৩৩ লাখ ৬৯ হাজার ৭০৯ জন। বাকি ১০ লাখ ৪৭ হাজার ৭৭৪ জন ভোটার এখনো স্মার্ট কার্ড হাতে পাননি।
ইসি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ২০১৭ সালের ১৩ মার্চ চট্টগ্রামে স্মার্ট কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন তৎকালীন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নুরুল হুদা। একই বছরের ১৬ মার্চ থেকে চট্টগ্রাম নগরীর কোতোয়ালি ও ডবলমুরিং থানার তিনটি ওয়ার্ডে স্মার্ট কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়। ধাপে ধাপে নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডসহ চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলার বিভিন্ন উপজেলায় স্মার্ট কার্ড বিতরণ শুরু হয়। সেই থেকে গত পাঁচ বছরেও সব ভোটারের হাতে স্মার্ট কার্ড তুলে দিতে পারেনি সংস্থাটি।
এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, এ পর্যন্ত যেসব ভোটারের হাতে স্মার্ট কার্ড তুলে দেওয়া হয়েছে তার উল্লেখযোগ্যসংখ্যক বেশ ভুলভাল ছিল। অনেকের নামের বানান ও জন্মতারিখ ভুল এসেছে। এমনকি একজনের ছবির জায়গায় অন্যজনের ছবিও বসানোর ঘটনাও ঘটেছে।
এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মুহাম্মদ হাসানুজ্জামান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘স্মার্ট কার্ড বিতরণ একটি চলমান প্রক্রিয়া। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলার ৪৪ লাখের বেশি ভোটারকে স্মার্ট কার্ডের আওতায় আনা হবে। এর মধ্যে প্রায় ৭৭ শতাংশ ভোটারের কাছে আমরা স্মার্ট কার্ড বিতরণ করছে সক্ষম হয়েছি। বাকিদেরও পর্যায়ক্রমে বিতরণ করা হবে। গত জানুয়ারি মাস থেকে কক্সবাজারের মহেশখালীতে স্মার্ট কার্ড বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এছাড়া আগামী সপ্তাহে চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে স্মার্ট কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন নবনিযুক্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল।’
এ নির্বাচন কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘ইতিমধ্যে স্মার্ট কার্ড বিতরণে ডেটা এন্ট্রি অপারেটর, সহকারী ডেটা এন্ট্রি অপারেটর ও টেকনিক্যাল ম্যানেজার নিয়োগ দিয়েছে কমিশন। প্রতিটি উপজেলায় তিনটি টিমে বিভক্ত হয়ে স্মার্ট কার্ড বিতরণ করছে। এসব টিমে পাঁচজন ডেটা এন্ট্রি অপারেটর, ছয় থেকে আটজন সহকারী ডেটা এন্ট্রি অপারেটর ও একজন করে টেকনিক্যাল ম্যানেজার স্মার্ট কার্ড বিতরণ কার্যক্রমে দায়িত্ব পালন করছেন।’
