সদ্য ঘোষিত সাহিত্যে স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্ত আমির হামজা দুটো হত্যা মামলার দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি বলে জানা গেছে। আমির হামজার ছেলে ও খুলনা জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান সংবাদমাধ্যমকে এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আমির হামজা ১৯৩১ সালে ব্রিটিশ শাসনামলে মাগুরা জেলার শ্রীপুরের বরিশাট গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধে স্থানীয় শ্রীপুর বাহিনীর সদস্য হয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় শিক্ষিত না হলেও একাধারে কবি, গীতিকার ও শিল্পী ছিলেন। কবিয়াল বিজয় সরকারের শিষ্য আমির হামজা অসংখ্য লোকগান রচনা ও সুর করেন। একাধারে তিনি কবিগানের শিল্পী হিসেবেও পরিচিত ছিলেন। আমির হামজা ২০১৯ সালরে ২৩ জানুয়ারি ৮৭ বছর বয়সে বার্ধক্যজনিত কারণে মারা যান।
তবে এলাকাবাসী জানিয়েছে, আমির হামজা পারিবারিকভাবে মুসলিম লীগ পরিবারের সন্তান ছিলেন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় স্থানীয়দের সঙ্গে তিনি শ্রীপুর বাহিনীতে যোগ দেন। ৭৫’ পরবর্তীতে তিনি রাজনৈতিকভাবে বিএনপি, জাতীয় পার্টিসহ একাধিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়েছিলেন। পেশাগতভাবে তিনি শ্রীপুরের খামারপাড়া হাটের ইজারাদারি ব্যবসা করতেন।
এলাকাবাসী আরও জানিয়েছে, তিনি ১৯৭৮ সালে সামাজিক সংঘর্ষে প্রতিপক্ষ সাহাদাত ফকির নামে এক আওয়ামী লীগ কর্মী ও এক শিশু খুনের মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন। পরে ১৯৯১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় এলে তৎকালীন মন্ত্রী মজিদুল উল হকের মাধ্যমে মুক্তি পান। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি দুই স্ত্রী, ৪ ছেলে ও ২ মেয়ের জনক ছিলেন।
স্থানীয় কলেজশিক্ষক ও লেখক ড. মুসাফির নজরুল জানান, আমির হামজা একজন চারণ কবি ছিলেন। তিনি কবিতা লেখার পাশাপাশি নিজেই সুর দিয়ে তা গাইতেন। ২০১৯ সালে মৃত্যুর আগে তার ‘বাঘের থাবা’ নামে কবিতা ও গানের বই প্রকাশিত হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ ফতেহ আলী টিপু জানান, আমির হামজা একজন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। পাশাপাশি তিনি কবিতা ও গান লিখতেন বলে শুনেছি। রাজনৈতিকভাবে আওয়ামী লীগের পরে স্থানীয় বিএনপি নেতা জহুর চৌধুরীর সঙ্গে বিএনপির রাজনীতি করেছেন।
মাগুরা জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু আয়ুব বিশ্বাস বলেন, খুনের ঘটনায় দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে স্বাধীনতা পুরস্কার দেয়া হলে সেটা কলঙ্কজনক হবে। জাতীয় পুরস্কার দেয়ার ক্ষেত্রে বাছাই কমিটির সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের আরও সতর্ক হওয়া উচিত বলে তিনি মনে করেন।
এ বিষয়ে আসাদুজ্জামান বলেন, বাবা যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ছিলেন ঘটনাটি সত্য। তবে জীবদ্দশায় বাবাকে ভালো মানুষ হিসেবে জেনেছি। তিনি উদার মানুষ ছিলেন। মানুষকে ভালোবাসতেন। আমি তার সন্তান হিসেবে তার রচিত গান কবিতাগুলো সংগ্রহের চেষ্টা করেছি। তারই স্বীকৃতি দিয়েছেন রাষ্ট্র। এটি সারা মাগুরার মানুষের জন্য গৌরবের।
