ধর্ষণে জন্ম নেয়া শিশুর ভরণপোষণের বিধি প্রণয়ন প্রশ্নে রুল

আপডেট : ১৬ মার্চ ২০২২, ০৯:৫২ পিএম

ধর্ষণের ফলে জন্ম নেয়া শিশুর ভরণপোষণে বিধি প্রণয়নের প্রশ্নে রুল দিয়েছে উচ্চ আদালত। এক রিট আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি এস এম মনিরুজ্জামানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল দেয়।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১৩ ধারা মোতাবেক ধর্ষণের ফলে জন্ম নেওয়া শিশুর ব্যয় বহনে বিধি প্রণয়ন করতে বিবাদীদের (রিট মামলার বিবাদী) নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না রুলে তা জানতে চেয়েছে  হাইকোর্ট। একই সঙ্গে কুড়িগ্রামের ধর্ষণের ফলে এক শিশুর ব্যয় বহনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে কেন  নির্দেশ দেওয়া হবে না, রুলে তাও জানতে চেয়েছে আদালত।

চার সপ্তাহের মধ্যে আইন সচিব, জনপ্রশাসন সচিব, নারী ও শিশু সচিব, সমাজ কল্যাণ সচিব, কুড়িগ্রামের ডিসিসহ সাতজনকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। সন্তানের ভরণপোষণের নির্দেশনা চেয়ে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টে এ রিট আবেদন করেন ভুক্তভোগী নারী।

রিট আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু ও  ইশরাত হাসান।

আইনজীবীদের তথ্য মতে, ২০১০ সালের ফেব্রুয়ারি কুড়িগ্রামে ধর্ষণের শিকার হন এক নারী। এ ঘটনায় খয়ের আলী নামে এক ব্যক্তিকে আসামি করে আদালতে মামলা করেন ভুক্তভোগী। বিচার চলাকালীন এক কন্যা সন্তানের জন্ম দেন ওই নারী। শিশু কন্যাটির বয়স এখন ১১ বছর। গত বছরের ১৪ ফেব্রুয়ারি মামলার রায়ে খয়ের আলীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয় কুড়িগ্রামের সংশ্লিষ্ট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল।

রায়ে বলা হয়, জন্ম নেওয়া ওই শিশু আসামি খয়ের আলীর ঔরসজাত সন্তান ও নালিশকারীর (ভুক্তভোগী) গর্ভজাত সন্তান হিসেবে পরিচিত হবে। এই সন্তানের বিয়ে না হওয়া পর্যন্ত সন্তান নালিশকারীর তত্ত্বাবধানে থাকবে। তত দিন পর্যন্ত এই সন্তানের ভরণপোষণের ব্যয় বিধি মোতাবেক রাষ্ট্র বহন করবে।

অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আইন অনুযায়ী ধর্ষণের ফলে কোনো সন্তানের জন্ম হলে সেই সন্তান থাকবেন মায়ের জিম্মায়। আর রাষ্ট্র সন্তানের ভরণপোষণ করবে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন হয়েছে ২০০০ সালে। আইনের ১৩ (২) ধারায় ধর্ষণের ফলে জন্ম নেওয়া শিশুর ভরণপোষণের বিষয়ে সরকারের প্রতি নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু প্রায় ২২ বছর আগে আইনটি হলেও এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো বিধিমালা হয়নি। আমরা এ বিষয়টিকে চ্যালেঞ্জ করেছিলাম। আদালত বিধি প্রণয়নে সরকারের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে রুল দিয়েছেন।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত