টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে স্থানীয় পাঁচ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীর বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে সেখানকার সাবেক সাংসদ আমানুর রহমান খান রানার কর্মী বাহিনীর বিরুদ্ধে। গতকাল বৃহস্পতিবার দীঘলকান্দি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. ইকবাল হোসেনসহ তার সমর্থক পাঁচ নেতাকর্মীর বাড়িতে বেলা ১১টা থেকে ঘণ্টাব্যাপী ওই তাণ্ডব চালানো হয় বলে জানিয়েছে প্রত্যক্ষদর্শীরা।
প্রত্যক্ষদর্শী জিয়াদ খান জয়, ফরিদা ইয়াসমিন, নার্গিস বেগম, কামাল হোসেন, নাঈম, ফয়সাল ও রনিসহ আরও কয়েকজন জানান, দীঘলকান্দি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. ইকবাল হোসেন চতুর্থ ধাপে অনুষ্ঠিত ইউপি নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ওই নির্বাচনে টাঙ্গাইলের খান পরিবার সমর্থিত ঘোড়া প্রতীকের রেজাউল করিম মটু নির্বাচিত হন। পরে জালিয়াতির অভিযোগ এনে ভোট পুনঃগণনার দাবিতে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেন ইকবাল হোসেন। আগামী ৭ এপ্রিল ট্রাইব্যুনালে ওই আবেদনের শুনানির দিন ধার্য রয়েছে। এ নিয়ে নির্বাচিত চেয়ারম্যান রেজাউল করিম মটু ও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মো. ইকবাল হোসেনের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে বিরোধ চলছে।
গতকাল সকাল ১০টার দিকে আওয়ামী লীগের কয়েকজন কর্মী দীঘলকান্দি ইউনিয়ন পরিষদে জন্মনিবন্ধন করতে গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি নানা অজুহাতে তাদের ফিরিয়ে দেন। কর্মীদের ফিরিয়ে দেওয়ায় ইকবাল হোসেন ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে ওই ব্যক্তির সঙ্গে রাগারাগি করেন। এ খবর পেয়ে চেয়ারম্যান রেজাউল করিম মটু টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের সাবেক এমপি আমানুর রহমান খান রানার কর্মী বাহিনী ডেকে এনে ইকবাল হোসেন ও তার সমর্থকদের পাঁচটি বাড়িতে ভাঙচুর চালান। ঘণ্টাব্যাপী তাণ্ডবে ইকবাল হোসেনের বাড়ির দুটি ঘর, তার ভাই সালামত হোসেন হিটলুর দুটি, ফরিদ হোসেনের দুটি, তার কর্মী বেলদহ গ্রামের কামাল হোসেনের দুটি এবং উপলদিয়া গ্রামের মাসুদ রানার দুটি ঘর ভাঙচুর করা হয়। আর এ কাজে ব্যবহার করা হয় দা, চাপাতি, হকিস্টিক, লাঠি ও রড। হামলাকারীরা বাড়িগুলো থেকে বিভিন্ন মালামাল লুট করে বলেও জানায় প্রত্যক্ষদর্শীরা।
ঘাটাইল থানার ওসি মো. আজহারুল ইসলাম বলেন, ‘বাড়িঘরে হামলার ঘটনায় ইকবাল হোসেন বাদী হয়ে থানায় অভিযোগ দিয়েছেন। তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
ঘাটাইল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক শহীদুল ইসলাম লেবু বলেন, ‘ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও কর্মীদের বাড়িঘরে হামলার ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। যারা হামলা চালিয়েছে তদন্তসাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’
