এক সপ্তাহ আগে ব্যক্তিগত কাজে ঢাকায় গিয়ে গতকাল মুন্সিগঞ্জ ফিরছিলাম আদনান। লঞ্চ ছাড়ার ঠিক ১০ মিনিট আগেও মায়ের সঙ্গে মোবাইলে কথা হয়েছিল। মাকে জানিয়েছিলেন, নারায়ণগঞ্জ লঞ্চঘাটে আছেন। কিছুক্ষণ পরেই লঞ্চ ছাড়বে।
পরে শীতলক্ষ্যায় লঞ্চ ডুবির খবর পেয়ে পাগল প্রায় হয়ে ওঠেন আদনানের মা-বাবা। তারা একটি ট্রলারে করে ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেখেন একটি ট্রলারে দাঁড়িয়ে আছেন আদনান। মুহূর্তেই শঙ্কা ও শোক রূপ নেয় আনন্দে। আদনানের মা কেঁদে ওঠেন আনন্দে। তিনি ভেবেছিলেন, যেহেতু তার ছেলে সাঁতার জানেন না, সেহেতু তাকে আর ফিরে পাওয়া যাবে না।
দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া আদনানের পুরো নাম আদনান দেওয়ান আদর। তিনি প্রেসিডেন্ট ড. ইয়াজ উদ্দিন আহম্মেদ রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের মানবিক বিভাগের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার বাবার নাম আব্দুস সাত্তার ও মা শাহিনা বেগম।
আদনান জানান, ‘স্বাভাবিক গতিতেই চলছিল লঞ্চটি। যাত্রীও খুব বেশি ছিল না। কিন্তু কিছু দূর যাওয়ার পরই কাত হয়ে যায় লঞ্চটি। মনে হচ্ছিল, পেছন থেকে কিছু একটা ঠেলে নিয়ে যাচ্ছিল লঞ্চটিকে। তখন সাঁতার না জানার কারণে লাফ দিতে পারেনি। পরে আমার পা ডুবন্ত লঞ্চটির কোথাও আটকে যায়। সেখান থেকে দ্রুত জোর করে পা ছাড়িয়ে লঞ্চ থেকে বের হয়ে বড় জাহাজটি ধরে থাকি। এরপর ফ্রিজের একটি ফোম পেয়ে সেটা ধরে ভাসতে থাকি। এ অবস্থায় স্থানীয়রা আমাকে উদ্ধার করে।’
উদ্ধার হওয়ার পর আদদান প্রথমে তার বন্ধুদের খবর দেন। শুরুতে তারাই একটি ট্রলার নিয়ে আসেন। পরে আসেন আদনানের বাবা-মা।
আদনান জানান, তিনি নিয়মিত এই পথে যাতায়াত করেন। তবে এবারই প্রথমবার এই ধরনের দুর্ঘটনার মুখোমুখি হলেন।
আদনানের মা শাহিনা বেগম ধরেই নিয়েছিলেন, তার ছেলেকে তিনি আর ফিরে পাবেন না। কারণ আদনান সাঁতার জানতেন না।
গতকাল রবিবার দুপুরে শীতলক্ষ্যা নদীতে মালবাহী জাহাজ রূপসী-৯ পেছন থেকে চাপা দিলে ডুবে যায় যাত্রীবাহী লঞ্চ এম এল আশরাফ উদ্দিন-২। ওই লঞ্চের যাত্রী ছিলেন আদনান।
লঞ্চডুবির এই ঘটনায় ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি নৌ পুলিশ ও বিআইডব্লিউটিএ'র কর্মীরা উদ্ধার কাজে অংশ নেন। এতে আজ দুপুর পর্যন্ত নদীতে তল্লাশি চালিয়ে ২ শিশুসহ ৮ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
