স্মারকলিপি দিতে গিয়ে বিএনপির ২ গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ১৫

আপডেট : ২২ মার্চ ২০২২, ০৫:২৪ পিএম

শেরপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব হযরত আলী ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সফিকুল ইসলাম মাসুদের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে ঘটনা ঘটেছে।

এতে জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নিয়ামুল হাসান আনন্দসহ অন্তত ১৫ দলীয় নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার দুপুর ১টায় ডিসি গেট মোড়ে থেকে বটতলা পর্যন্ত আধা ঘণ্টা ব্যাপী এই সংঘর্ষ হয়।

আহতদের মধ্যে তিনজনকে জেলা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। অন্যরা বেসরকারি ক্লিনিকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

গুরুতর আহতরা হলেন- যুবদল নেতা আশরাফুল, রনি, কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক জাকির হোসেন, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মনির হোসন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও বিএনপি নেতা-কর্মী সূত্র জানায়, কমিটির পদ পদবি ও দলে প্রভাব বিস্তার নিয়ে বিএনপিতে দুই গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে। আজ মঙ্গলবার দলের কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার কথা।

তারা আরও জানান, ঘটনার আগে দুই গ্রুপ নিজ নিজ নেতা সমর্থক নিয়ে জেলা প্রশাসক চত্বরে জমায়েত হতে থাকেন। দুই গ্রুপ মুখোমুখি হলে কথা-কাটাকাটি ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে সিনিয়র নেতাদের সহযোগিতায় হাতাহাতি বন্ধ হলে জেলা প্রশাসক মো. মোমিনুর রশীদের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন।

স্মারকলিপি দেয়া শেষ হলে জেলা প্রশাসকের সিঁড়িতেও আবারও উত্তেজনা তৈরি হয়। দুই গ্রুপ জেলা প্রশাসকের অফিসেই মারামারিতে উদ্যত হলে পুলিশ শান্ত করে অফিস প্রাঙ্গণ ত্যাগ করতে বলে।

অফিস থেকে বের হয়ে জেলা প্রশাসকের মূল গেটে আসতেই উভয় পক্ষ মারামারিতে লিপ্ত হয়। এতে দুই পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হন।

দলীয় একটি সূত্র জানিয়েছে, গ্রুপিংয়ের কারণে জেলার বেশ কিছু শীর্ষ পর্যায়ের নেতাকে বহিষ্কারের সুপারিশ করেন বিএনপি নেতা হযরত আলী। এ বিষয়টি নিয়ে কয়েক দিন ধরেই জেলা বিএনপি অঙ্গন উত্তপ্ত। ঘটনার জেরে আজ এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

স্মারকলিপি দেওয়ার সময় হযরত আলীর সঙ্গে জেলা বিএনপির সভাপতি মাহমুদল হক রুবেলসহ বিএনপির বেশ কিছু নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন ।    

এ ঘটনায় শেরপুর জেলা বিএনপির সভাপতি মাহমুদুল হক রুবেলের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির একাধিক নেতা বিষয়টিকে ‘দুঃখজনক’ বলে উল্লেখ করেছেন।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মনসুর আহমেদ জানান, পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে আছে। মামলা হয়নি। মামলা হলেই ব্যবস্থা নেয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত