স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের মূল উদ্দীপক স্লোগান ‘জয় বাংলা’ এখন জাতীয় স্লোগান। স্বাধীনতার মাসে স্লোগানটির এমন রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি উদ্যাপন করতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ‘জয় বাংলা উৎসব’। সম্প্রতি এ উৎসবের উদ্বোধন ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এবার উৎসবটি আয়োজন করা হয়েছে দোহারে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় স্থানীয় জয়পাড়া বড় মাঠে আয়োজিত এ উৎসবে জয় বাংলাকে জাতীয় স্লোগান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্রিয় ভূমিকা রাখায় প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা ও সংসদ সদস্য সালমান এফ রহমানকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
প্রধান অতিথি সালমান এফ রহমান ছাড়াও উৎসবে উপস্থিত ছিলেন দোহার উপজেলা চেয়ারম্যান মো. আলমগীর হোসেন, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র অধিদপ্তরের সাবেক প্রধান চিত্রগ্রাহক, বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণের সংরক্ষণকারী ও একুশে পদকপ্রাপ্ত ব্যক্তিত্ব আমজাদ আলী।
সভাপতিত্ব করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. খান মোহাম্মদ আবদুল মান্নান।
অনুষ্ঠানে সালমান এফ রহমান তার বক্তব্যে ৭ মার্চের ভাষণ ও জয় বাংলার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, ‘১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ডের পর ৭ মার্চের ভাষণ যারা শুনতো বা জয় বাংলা বলতো তাদের নির্যাতনের শিকার হতে হতো। কিন্তু ৭ মার্চের এ ভাষণ ও জয় বাংলা স্লোগানই আমাদের স্বাধীনতার মূল ভিত্তি। দেশটাকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ ও জয় বাংলাকে মন থেকে বিশ্বাস করতে হবে।”
সালমান এফ রহমানের বক্তব্যের পর তাকে ফুলের শুভেচ্ছা ও নানা স্মারক উপহারে সংবর্ধিত করেন স্বেচ্ছাসেবক লীগ, ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগ ও দোহার উপজেলার নানা স্তরের রাজনৈতিক নেতা-কর্মী ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
এর আগে সংবর্ধনাপ্রাপ্ত আমজাদ আলী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর ভাষণ আমি রেকর্ড করি এবং জীবনবাজি রেখে এই দোহারের মজিদ দারোগার বাড়িতে সংরক্ষণ করি। ওই দিন যদি আমরা ভাষণটি সংরক্ষণ না করতাম তাহলে নতুন প্রজন্ম কিছুই বুঝতে পারতেন না বঙ্গবন্ধু কী বলেছিলেন, কী করেছিলেন। বঙ্গবন্ধু এমন কিছু বাকি রাখেননি বলার, যা যা বলা দরকার সবই বলে গেছেন। এমন একটি বড় আয়োজনে আমাকে সম্মানিত করায় ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানকে বর্ণিল করতে নানা আয়োজনের পাশাপাশি এতে নৃত্য পরিবেশন করেন পূর্ণিমা, ফেরদৌস, নীরব ও তমা মির্জা। সংগীত পরিবেশন করে নগর বাউল, মমতাজ তাপস অ্যান্ড ফ্রেন্ডস ও অন্যরা।
