ইউপি সচিবকে মারধরে অভিযুক্ত চেয়ারম্যানের শাস্তি দাবি

আপডেট : ২৩ মার্চ ২০২২, ০৬:২৮ পিএম

খুলনার কয়রা উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ কর্মরত সচিব ইকবাল হোসেনকে পেটানোর ঘটনায় শাস্তি দাবি করেছেন ইউনিয়ন পরিষদ সচিব সমিতির খুলনা জেলা শাখার নেতারা।

বুধবার খুলনা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে তারা এ দাবি জানান। 

লিখিত বক্তব্যে সমিতির সভাপতি মো. জিয়ারাত হোসেন বলেন, খুলনার কয়রা উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ পেশাগত দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় আমাদের সহকর্মী ইউপি সচিব মাে. ইকবাল হােসেনকে সন্ত্রাসী কায়দায় বেধড়ক মারপিট করে মারাত্মক জখম করেছেন। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জ্ঞাপনের পাশাপাশি অবিলম্বে হামলাকারীর বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানাচ্ছি।

তিনি আরো বলেন, আমরা খুলনা জেলা বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের সচিব পদে থেকে সরকারের বিভিন্ন দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে তৃণমূল জনগণকে সরকারি সেবা দিয়ে থাকি। আমরা ইউপি সচিব ও হিসাব সহকারী এবং উদ্যোক্তারা দিন-রাত কাজ করে জনগণের বিভিন্ন সেবা দিই। এ ছাড়া এনজিও’র সঙ্গে সমন্বয়সহ প্রতিদিন পাহাড় পরিমাণ কাজের মধ্যে ব্যস্ত থাকতে হয়। অনেক সময় দুপুরের খাবার রাতে বাসায় গিয়ে খেতে হয়। এরপরে অফিসের কাজ বাসায় এসে রাতেও করতে হয়। কারণ ইউনিয়ন পরিষদে প্রয়ােজনীয় জনবল নেই। এভাবে আমরা প্রতিনিয়ত মানুষের সেবায় পেশাগত দায়িত্ব পালন করছি।

তিনি জানান, আমাদের সহকর্মী মাে. ইকবাল হােসেন কয়রা উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নে কর্মরত। গত ২১ মার্চ নিয়মিত অফিসের কাজ শেষ করে বিকাল ৫টার পর তিনি অফিস থেকে বাড়ি ফিরে যান। এরপর চেয়ারম্যান সাহেব লােক পাঠিয়ে তাকে বাড়ি থেকে ইউনিয়ন পরিষদে ধরে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যার উদ্দেশ্যে মারধর করেন এবং নানা হুমকি দেন। মােবাইল কেড়ে নিয়ে যােগাযাগ বন্ধ করে দেন। মারধরে তার বাম হাত ভেঙে যায় এবং ডান হাত ফ্যাকচার হয়েছে। শরীরে মারধরের চিহ্ন আছে এবং মাথা গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ঘটনা জানার পর আমাদী ইউনিয়নের কর্মরত ইউপি সচিব কয়রা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মহােদয়কে অবহিত করলেও তিনি কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। এ অবস্থায় আমরা খুলনা জেলার ইউপি সচিব কর্মস্থলে ভয়ের মধ্যে আছি। এ সময় পেশাগত দায়িত্ব পালনে নিরাপত্তার স্বার্থে মহারাজপুর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল মাহমুদকে অবিলম্বে গ্রেপ্তারপূর্বক উল্লেখিত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তসাপেক্ষে দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির জোর দাবি জানাই।

সংবাদ সম্মেলন শেষে এ ঘটনার প্রতিবাদে ও হামলাকারীর শাস্তি দাবিতে জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি পেশ করেন তারা।

সংবাদ সম্মেলনে খুলনার ৬৮ ইউনিয়নের প্রায় সব ইউনিয়ন পরিষদের সচিব উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, সোমবার সন্ধ্যায় খুলনার কয়রা উপজেলার ৪ নম্বর মহারাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রাণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ ইউপি সচিব মো. ইকবাল হোসেনকে নিজ কার্যালয়ে বেধড়ক মারধর করেন বলে অভিযোগ ওঠে। তবে চেয়ারম্যান মারধরের বিষয়টি অস্বীকার করে আসছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত