প্রমত্তা যমুনার কোথাও এখন হাঁটু পানি, কোথাও ধু ধু বালুচর

আপডেট : ২৪ মার্চ ২০২২, ১১:৩৭ এএম

শুষ্ক মৌসুম শুরু না হতেই সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার যমুনা নদীর বানতিয়ার-মনাকোষা নৌরুটে পানি শুকিয়ে বিশাল বালুর চর জেগে উঠেছে। বড় চানতারা হতে মাকড়া পর্যন্ত ৩ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে সৃষ্ট এ বালুর চরের কারণে গত ৩ মাস ধরে এ নৌরুটে নৌ চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে।

ফলে পণ্য পরিবহনে কৃষক ও ব্যবসায়ীদের ঘোড়ার গাড়িই এখন একমাত্র ভরসা হয়ে উঠেছে। নিরুপায় হয়ে লোকজনকে মাইলের পর মাইল পায়ে হেঁটে পার হতে হচ্ছে।

প্রখর রোদে উত্তপ্ত বালুর চর পার হতে অনেকের পা পুড়ে ফোসকা পড়ছে। এ কষ্ট সইতে না পেরে অনেক শিক্ষার্থী স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে।

অপরদিকে উপজেলার সোনাতনি, কৈজুরি, গালা, খুকনি ও জালালপুর এ ৪টি ইউনিয়নের প্রায় ১৬ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিস্তৃত যমুনা নদীর পানি শুকিয়ে ধু ধু বালুর চরে জেগে ওঠায় নদীটির অনেক স্থান মরা খালে পরিণত হয়েছে।

যে অংশে সামান্য পানি আছে সেখানেও অসংখ্য ডুবচর জেগে উঠেছে। এ কারণে এখন আর যমুনা নদীতে আগের মত নৌকা চলে না।

চাহিদা অনুযায়ী পানি না থাকায় নদীতে মাছও নেই। ফলে এ চার ইউনিয়নের প্রায় ৫ হাজার জেলে ও ৫ হাজার মাঝি-মাল্লা বেকার ও কর্মহীন হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে।

বানতিয়ার উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সোনাতনী গ্রামের আমিরুল ইসলাম বলেন, আমাদের প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে হাঁটু পানি ভেঙে ও উত্তপ্ত রোদে ২ কিলোমিটার বালুর চর মাড়িয়ে স্কুলে যেতে খুব কষ্ট হয়।

এ বছর শুষ্ক মৌসুম শুরু না হতেই নদীতে পানি শুকিয়ে ধু ধু বালুর চর পড়ে যাওয়ায় নৌকা চালানো বন্ধ হয়ে গেছে বলে জানালেন বানতিয়ার গ্রামের আমীর হামজা, ময়নাল প্রামাণিকসহ কয়েকজন মাঝি।

সোনাতুনি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মরতুজ আলী বলেন, নব্য সংকট নিরশনে দ্রুত যমুনা নদীর এ অংশে ড্রেজিং প্রয়োজন। এখানে ড্রেজিং হলে জেলে ও মাঝিরা উপকৃত হওয়া হবে। পাশাপাশি বর্ষা মৌসুমে বাড়িঘর ও ফসলি জমি নদী ভাঙন থেকে রক্ষা পাবে। এ নৌপথ সচল হলে মানুষ স্বল্প খরচে মালামাল পরিবহন ও যাতায়াত করতে পারবে।

এ বিষয়ে বানতিয়ার উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হযরত আলী বলেন, যমুনা নদীর পানি শুকিয়ে যাওয়ায় এ এ অংশে বিশাল বালুর চর জেগে উঠেছে। প্রখর রোদে উত্তপ্ত এ বালুর চর পাড়ি দিয়ে অধিকাংশ শিক্ষার্থী স্কুলে আসতে চায় না। ফলে তাদের পড়ালেখায়ও ভাটা পরেছে। রেজাল্টও খারাপ হচ্ছে। নদীটি ড্রেজিং করে পানির প্রবাহ স্বাভাবিক করা হলে শিক্ষার্থীরা সহজে নৌকায় করে স্কুলে যাতায়াত করতে পারবে।

এ বিষয়ে সোনাতুনি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান লুৎফর রহমান জানান, দীর্ঘদিন ধরে যমুনায় ড্রেজিং না হওয়ায় শুষ্ক মৌসুমে নদী নাব্য হারায়। আর বর্ষা মৌসুমে পানি ধারণ ক্ষমতা না থাকায় বাড়িঘর ভেঙে নদীগর্ভে বিলীন হয়। ফলে সোনাতনী ইউনিয়নের মানুষ প্রতি বছর সবকিছু হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে।

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম বলেন, ডেল্টা প্রকল্পের আওতায় একটি মেগা প্রকল্পের মাধ্যমে কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারীরবন্দর সচল করতে অচিরেই আরিচা থেকে চিলমারীর বন্দর পর্যন্ত যমুনা নদীর ড্রেজিং কাজ শুরু হবে।

‘এ কাজ শুরু হলে পর্যায়ক্রমে আমাদের এ অংশের শাখা নদী সহ সম্পূর্ণটাই ড্রেজিং হয়ে যাবে। তখন এ এলাকার নাব্য সংকট দূর হওয়ার পাশাপাশি আবাদি জমি ও বাড়িঘর ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা পাবে। তখন আর এ সমস্যা থাকবে না।’ বলেন  প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত