রূপপুরে ছুরিকাঘাতে কাজাখস্তানের নাগরিক নিহত: ৩ বেলারুশিয়ান কারাগারে

আপডেট : ২৮ মার্চ ২০২২, ০৮:৫৬ পিএম

পাবনায় নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে কর্মরত কাজাখস্তান নাগরিক ভ্লাদিমির সভেটস নিহতের ঘটনায় রবিবার রাতে ঈশ্বরদী থানায় মামলা হয়েছে।

ভ্লাদিমিরের নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান নিকিমথ এটমস্ট্রয় কোম্পানির শাখা পরিচালক আইউরি ফেডোরভ এই মামলা করেন।

মামলায় আরবানভিচুস ভিটালি (৪৪), ফেদারোভিচ হেনাডজ (৪২) ও মাতসভেইউ উলাদজিমির (৪৩) নামের তিনজনকে আসামি করা হয়েছে। তারা সকলে বেলারুশের নাগরিক; এবং প্রকল্পের ‘রোসেম’ নামের একটি রাশিয়ান প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন।

সোমবার দুপুরে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ঈশ্বরদী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রায়হান পারভেজ সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, রবিবার দুপুরে পাবনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে ভ্লাদিমিরের মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গের হিমাগারে রাখা হয়েছে।

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান জানান, ওই মামলায় আটক আসামিদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে সোমবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

রূপপুর প্রকল্পের সাইট ইনচার্জ রুহুল কুদ্দুস জানান, নিহত ভ্লাদিমির সভেটস ‘নিকিমত এটমস্ট্রয়’ নামের রাশান সাব-ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানে শ্রমিক পরিচালক (ফোরম্যান) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার ভাই বেরেজনয় অ্যান্ডেও রূপপুর প্রকল্পের ‘রোসেম’ নামে সাব-ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানে ওয়েল্ডিং মিস্ত্রি হিসেবে চাকরি করেন।

ঈশ্বরদী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রায়হান পারভেজ জানান, ভ্লাদিমির সভেটস এর ভাই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘রোসেমে’ চাকরি করলেও তার টাকাপয়সা পাওনাদি নিয়ে কিছুদিন ধরে জটিলতা চলছিল। এটা নিয়ে কথা বলতে শনিবার সন্ধ্যায় সভেটস তার ভাইকে সঙ্গে নিয়ে রোসেমে চাকরি করা তিন বেলারুশীয় কর্মকর্তার সঙ্গে গ্রিনসিটি ভবনের ওই কক্ষে যায়। কিছু সময় পর অবস্থানের পর ওই কক্ষের ভেতরেই কাজাখস্তানের নাগরিকের সঙ্গে বেলারুশীয় নাগরিকের মধ্যে মারামারি ও ধস্তাধস্তি শুরু হয়।

‘এতে ছুরিকাঘাতে আহত হন ভ্লাদিমির। সেখানে তার মৃত্যু ঘটে। এর পরপরই সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা কর্মকর্তা ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ সেখান থেকে একটি চাকু জব্দ ও ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে তিনজন বেলারুশীয় নাগরিককে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।’

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্পের সাইট ইনচার্জ রুহুল কুদ্দুস জানান, গ্রীনসিটি আবাসিক এলাকায় বিভিন্ন ভবনে প্রায় পাঁচ হাজার বিদেশী নাগরিক থাকেন। এদের মধ্যে রাশিয়ান, বেলারুশ, কাজাখস্তান, ইউক্রেনসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিক রয়েছেন। শনিবার রাতে বেলারুশের নাগরিকদের সঙ্গে মারামারিতে কাজাখস্তানের নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনা পুলিশ ও প্রকল্পের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সকল বাহিনী তদন্ত করেছে।

রুহুল কুদ্দুস আরো বলেন, এটি একটি সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন ঘটনা। এতে প্রকল্পের সার্বিক নিরাপত্তায় কোনো প্রভাব পড়েনি। গ্রিনসিটির পরিবেশও স্বাভাবিক রয়েছে।

প্রসঙ্গত, শনিবার সন্ধ্যায় উপজেলার সাহাপুরের নতুনহাট মোড়ে রূপপুর প্রকল্পের আবাসিক এলাকা গ্রিন সিটির ছয় নম্বর বিল্ডিংয়ের দশ তলার ১০৬ নম্বর কক্ষে ছুরিকাঘাতে খুন হন কাজাখস্তানের নাগরিক ভ্লাদিমির সভেটস। এ ঘটনায় আহত হন তার ভাই বেরেজনয় অ্যান্ডে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত