স্কুলে আয়রন ট্যাবলেট খাওয়ার পর ছাত্রীর মৃত্যু

আপডেট : ২৯ মার্চ ২০২২, ০৪:২৫ এএম

ঝিনাইদহের একটি বিদ্যালয়ে আয়রন ফলিক এসিড ট্যাবলেট খাওয়ার পর অসুস্থ হয়ে এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। গতকাল সোমবার সকালে স্কুলে ট্যাবলেট খাওয়ার পর অসুস্থ হয়ে পড়ে রেবা খাতুন (১২) নামে ওই শিক্ষার্থী। পরে দুপুরে হাসপাতালে মৃত্যু হয় তার। তবে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, কী কারণে ওই শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে তা বিস্তারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ময়নাতদন্ত ছাড়া বলা সম্ভব নয়।

রেবা ঝিনাইদহ সদর উপজেলার উত্তর সমশপুর গ্রামের সাগর হোসেনের মেয়ে ও হাটগোপালপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী ছিল। একই স্কুলে ট্যাবলেট খাওয়ার পর অসুস্থ হয়ে পড়া ফারজানা আকতার ও আসমা খাতুন নামে আরও দুই শিক্ষার্থীকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

হাটগোপালপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ইউসুফ আলী বলেন, ‘কৈশোরকালীন পুষ্টি নিশ্চিত করতে দেশব্যাপী শনিবার থেকে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে সরবরাহ করা আয়রন ফলিক এসিড ট্যাবলেট খাওয়ানো শুরু হয়েছে। রেবা প্রতিদিনের মতো সকাল ১০টার দিকে স্কুলে আসে। ট্যাবলেট খাওয়ার পর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সেসহ তিনটি মেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাদের সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক রেবাকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।’

মৃত রেবার বাবা সাগর আহমেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মেয়ের কোনো রোগ ছিল না। কেন সে মারা গেল তা তদন্ত করার দাবি করছি।’

ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক আশরাফুজ্জামান বলেন, ‘মেয়েটিকে আমরা মৃত পেয়েছি। মৃত্যুর কারণ পরীক্ষা-নিরীক্ষা বা ময়নাতদন্তের পরই জানা যাবে।’

আয়রন ট্যাবলেট খেয়ে কারও মৃত্যু হওয়ার কথা নয় বলে জানিয়েছেন ঝিনাইদহের সিভিল সার্জন ডা. শুভ্রা রানী দেবনাথ। তিনি বলেন, ‘ওষুধ যদি মেয়াদোত্তীর্ণ হয় তবুও সর্বোচ্চ পাতলা পায়খানা হতে পারে। তারপরও মৃত্যুর কারণ নির্ণয় করার জন্য সদর হাসপাতালের শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ আনোয়ারুল ইসলামকে প্রধান করে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী ৩ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে।’

ইউনিসেফের অর্থায়নে কিশোরীদের আয়রনের চাহিদা পূরণে স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে জেলার শিক্ষার্থীদের এই আয়রন ট্যাবলেট খাওয়ানো হচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত