সড়ক দুর্ঘটনায় শিক্ষার্থীর মৃত্যু: মীমকে নিয়ে যা বললেন বস

আপডেট : ০১ এপ্রিল ২০২২, ১১:৫৯ পিএম

সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী মাইশা মমতাজ মীম পড়ালেখার পাশাপাশি চাকরিও করতেন। সেখানেও মীম তার প্রতিভা ও ব্যক্তিত্বের স্বাক্ষর রাখতে পেরেছিলেন।

কিন্তু অফিসের কাজ পড়ালেখায় প্রভাব ফেলছিল বলে রেজাল্ট খারাপ হয়েছিল বলে সে চাকরিও ছেড়ে দিয়েছিল। তবে, শুক্রবার মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় মীমের সম্ভাবনাময় জীবনের অবসান হয়।

ডিজিটাল ক্রিয়েটিভ এজেন্সিতে সহকারী প্রজেক্ট ম্যানেজার হিসেবে চাকরি করতেন মাইশা মমতাজ মীম। তাকে নিয়ে তার প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রিন্স চৌধুরী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি পোস্ট দিয়েছে।

সেখানে তিনি লিখেছেন, ‘আমি লাইফে কোনো টিম মেম্বারকে নিয়ে লিখি নাই আর লিখতাম নাকি তাও জানি না তবে গতকাল (বৃহস্পতিবার) মীমের আমার অফিসে জব করার শেষ দিন ছিল। তাই আজকে ওকে নিয়ে একটা সেলফি তুলতাম আর পোস্ট দিতাম যে ও আমার অফিস টিম মেম্বার হিসেবে এবং বিজনেসে কতটা গুরুত্বপূর্ণ মানুষ ছিল। যদি সে যদি অন্য কোথাও জব করত তাহলে ওকে বেষ্ট অ্যান্ড বেষ্ট টিম মেম্বার অ্যাওয়ার্ড দিত। আমি পোস্টটা এখনো লিখছি কিন্তু হাত কাঁপছে আর এই অবস্থায় লিখতে হবে কখনো ভাবিনি নাই, ওর কথা কীভাবে বলব সেইটা বুঝছি না।

তিনি আরও জানান, ‘২০২১ সালের জুন মাস থেকে সে সহকারী প্রজেক্ট ম্যানেজার হিসেবে কাজ করা শুরু করে। অফিসের সবকিছুর টিম রেডি আছে কিন্তু আমার ক্লায়েন্ট হ্যান্ডেলিং করার মতো বিশ্বস্ত, সৎ এবং মনোযোগী একজন সহকারী খুঁজছিলাম প্রায় ১ বছর। কারণ এইটা খুবই কনফিডেনশিয়াল একটি কাজ আমার কোম্পানির জন্য। মীম আমার জীবনে দেখা সবথেকে অনেস্ট এবং ভদ্র একটি মেয়ে ছিল। ওর কিছু গুণ আছে যা আরও ১০ টা মেয়ের মধ্যে খুঁজে পাওয়া যাবে না, ওর চিন্তা ভাবনা আমার সাথে শেয়ার করত, যা আমরা অনেক টাকা আয় করার পরেও মানুষকে নিয়ে এইভাবে চিন্তা করি না।

আর আমার কোম্পানিতে ওর শুধুমাত্র কাজ ছিল ইন্টারন্যাশনাল ক্লায়েন্ট হ্যান্ডেলিং করা আর টিমের কাছ থেকে কাজের আপডেট করা কিন্তু মীম এতটাই ডেডিকেটেড একটা মানুষ ছিল যে আমার ক্লায়েন্ট এর সাথে স্ক্রিপ্টেড মিটিং যদি সন্ধ্যায় থাকত তাহলে সে সারা দিন সেইটা নিয়ে ভাবত আর এই ভাবনার কারণে তার ভার্সিটি গ্রেড কম হয়ে যায়।

সিম্পল কাজেও মীম এতটা ডেডিকেটেড ছিল যে সাহসে আমি আরেকটা বিজনেস দাঁড় করিয়ে ফেলেছি, ওর ডেডিকেশন লেভেল এতটাই ছিল যে আমি এখন পুরোপুরি অলস।

ও থাকা অবস্থায় আমাকে গত ৬ মাসে কোন ক্লায়েন্ট নিয়ে ভাবতে হয় নাই এবং কোন ক্লায়েন্টের প্রোজেক্ট কোন টিম মেম্বার কখন করবে সেইটার টোটাল ব্যাপারটাই মীম ম্যানেজ করত।

আমার কমিউনিটির সিনিয়ররা বললে আমি এখন কোন কিছু না করেই কীভাবে চলি? যা বলব পুরোটাই মীম দেখত, এক কোথায় আমাকে কোন টেনশন করতে হতো না আমার কোন কাজের জন্য। যেহেতু কাজ করার কারণে গত সেমিস্টার ওর রেজাল্টে ইমপ্যাক্ট পড়ছিল তাই জানুয়ারি মাসে লিভ নিতে চায় অ্যান্ড আমি ওকে প্রসেসিং অনুযায়ী মার্চ মাসে ছাড়তে বলি। ওর লাস্ট মাসের স্যালারি দেওয়া হয়নি তাই অফিসে আসবে কখন গতকাল (বৃহস্পতিবার) রাতেই কথা হচ্ছিল। কিন্তু আজকে যে এই সংবাদ শুনব তা কল্পনাও করি নাই । তাছাড়া মীমের একটা ভালো গুন ছিল সে ৫ ওয়াক্ত নামাজ পড়ার চেষ্টা করত এবং খুব সকালে ঘুম থেকে উঠত।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত