অশ্রুসিক্ত ভালোবাসা আর ফুলেল শ্রদ্ধায় হাজারো মানুষ শেষ বিদায় জানিয়েছে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক আবৃত্তিশিল্পী হাসান আরিফকে। গতকাল শনিবার বেলা ১১টায় কফিনবন্দি হয়ে শেষবারের মতো কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আসে হাসান আরিফের মরদেহ; দুপুর ১টা পর্যন্ত তার কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান রাজনৈতিক নেতা, সংস্কৃতজনসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। সে সময় হাসান আরিফের রেকর্ডকৃত আবৃত্তি বাজানো হয়। এছাড়া তার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে রবীন্দ্রসংগীত ‘জীবন মরণের সীমানা ছাড়ায়ে’ পরিবেশন করেন শিল্পী ফারহিন খান জয়িতা। পরে তার মরদেহ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়কে (বিএসএমএমইউ) বুঝিয়ে দেওয়া হয়।
হাসান আরিফের কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায় সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি, জাসদ, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়, কণ্ঠশীলন, সাংস্কৃতিক সংগঠন বহ্নিশিখা, স্বনন, ঋষিজ, মহাকাল নাট্য সম্প্রদায়, বাংলাদেশ পুলিশ থিয়েটার, সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম, উদীচী, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট, বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টি, গণসংগীত সমন্বয় পরিষদ, কমিউনিস্ট পার্টি, আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদ, প্রাচ্যনাটসহ অনেক সংগঠন।
সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ বলেন, ‘হাসান আরিফ সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালনকালে শহীদ মিনারে বহু সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের শেষ বিদায়ের আয়োজনে অগ্রভাগে ছিলেন। সেই শহীদ মিনার এবার হলো তারই বিদায়ের মঞ্চ। আমরা তার চিন্তাকে ছড়িয়ে দিতে কাজ করে যাব।’
হাসান আরিফের বোন রাবেয়া রওশন তুলি বলেন, আপনাদের সকলের কাছে আমাদের পরিবারের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা জানাই।’
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হাছান মাহমুদ, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ, শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনিসহ অনেকে।
শ্রদ্ধা জানাতে এসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আখতারুজ্জামান বলেন, ‘হাসান আরিফ অসাম্প্রদায়িক চেতনা ছড়িয়ে দিতে আজীবন কাজ করে গেছেন।’
সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব নাসির উদ্দীন ইউসুফ বলেন, ‘অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে ধারণ করে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটকে শক্তিশালী করতে কাজ করে গেছেন। শুধু আবৃত্তি নয়, পুরো জীবন সংস্কৃতিতে নিয়োজিত ছিল আরিফ।’
দুপুর ১টায় শ্রদ্ধা জ্ঞাপন শেষে হাসান আরিফের কফিন নিয়ে যাওয়া হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মসজিদ প্রাঙ্গণে। সেখানে তার জানাজা হয়। মৃত্যুর আগেই হাসান আরিফ বিএসএমএমইউকে মরণোত্তর দেহ দান করে গেছেন। গতকাল দুপুর ২টায় বিএসএমএমইউর প্রশাসনিক ভবনের সামনে হয় তার আনুষ্ঠানিকতা। বিএসএমএমইউর পক্ষে প্রয়াত এ শিল্পীর দেহ গ্রহণ করেন উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ। সে সময় উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ডা. একেএম মোশাররফ, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. ছয়েফ উদ্দিন আহমেদ, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান, এনাটমি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. লায়লা আনজুমান বানু, সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ, নাসিরউদ্দীন ইউসুফ প্রমুখ। হাসান আরিফের পরিবারের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন তার বোন রাবেয়া রওশন তুলি।
শুক্রবার দুপুর ১টা ৫০ মিনিটে হাসান আরিফ রাজধানীর একটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। গত ডিসেম্বরে করোনায় আক্রান্ত হয়ে ফুসফুস ও কিডনির নানা জটিলতা নিয়ে প্রায় চার মাস চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।
