বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘দেশের আইন, আদালত সবকিছু এখন বর্তমান কর্তৃত্ববাদী আওয়ামী সরকারের নির্দেশ মোতাবেক চলছে। বর্তমান শাসকগোষ্ঠী নিজেদের রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে আইন, আদালতকে হাতিয়ার বানিয়েছে।’
সোমবার বিএনপির পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এসব বলেন।
বিবৃতিতে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ মুগদা থানার ‘মিথ্যা, বানোয়াট ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ মামলায় বিএনপি কর্মী নবী, স্বাধীন, মুকতার, ওয়াসীম, কামাল, রুবেল ও খায়রুলকে আদালত কর্তৃক দুই বছর দুই মাস করে সাজা দেওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন বিএনপি মহাসচিব।
এর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতিতে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘দেশ এখন চলছে সম্পূর্ণরূপে ফ্যাসিবাদী কায়দায়। বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনসহ বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের রাজনীতির অঙ্গন থেকে সরিয়ে দিতে প্রথমে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভুয়া ও গায়েবী মামলা দায়ের করা হচ্ছে। এরপর আদালত কর্তৃক কারাদণ্ডাদেশ দেওয়ার মাধ্যমে দেশে জুলুমের শাসন চালাচ্ছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার।’
তিনি বলেন, ‘সরকার দেশ শাসনে সর্বক্ষেত্রে নজীরবিহীন ব্যর্থতা ঢাকতে বিএনপি নেতাকর্মীদের বানোয়াট মামলায় কারাগারে আটকে রাখতে বেপরোয়া হয়ে গেছে। আর এর অংশ হিসেবে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ মুগদা থানার মিথ্যা, বানোয়াট ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় বিএনপির সাত কর্মীকে সাজা দেওয়া হয়েছে। তবে সরকারের অপকর্ম ও ভয়াবহ দুঃশাসনে জনগণের ক্ষোভ এখন তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে।’
বিবৃতিতে বিএনপি মহাসচিব অবিলম্বে বিএনপি কর্মীদের মুক্তির জোর দাবি জানান।
পৃথক বিবৃতিতে বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক আবদুস সালাম একই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘আওয়ামী সরকারের পায়ের নিচের মাটি সরে গেছে। এ জন্য এখন তারা বেসামাল হয়ে পড়েছে। দেশকে বিরোধী দলশূণ্য করতে বর্তমান কর্তৃত্ববাদী শাসকগোষ্ঠী বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে পাইকারী হারে মিথ্যা মামলা দায়ের ও আদালতকে দিয়ে সাজা প্রদান করছে। তবে এসব অপকর্ম করে পার পাবে না সরকার।’
