হিলিতে ক্রেতা সংকটে পচছে পেঁয়াজ, মাথায় হাত আমদানিকারকদের

আপডেট : ০৫ এপ্রিল ২০২২, ০৩:৪১ পিএম

পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ হয়ে যাওয়ার খবরে দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে বাড়তি পেঁয়াজ আমদানি করেন আমদানিকারকরা। কিন্তু দেখা দিয়েছে ক্রেতা সংকট।

দীর্ঘদিনেও বিক্রি করতে না পেরে অতিরিক্ত গরমে পেঁয়াজে পচন ধরেছে। বাধ্য হয়ে খানিকটা কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন আমদানিকারকরা। এতে করে লোকসানের মুখে পড়েছেন।

তারা খারাপ মানের পেঁয়াজগুলো ২/৩ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছেন; কিছু বিনা মূল্যে দিচ্ছেন আবার কিছু পেঁয়াজ ফেলে দিচ্ছেন। আর ভালো মানের পেঁয়াজ ১৩/১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে পূর্বের পেঁয়াজ বিক্রি না হওয়ায় নতুন করে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ রেখেছেন আমদানিকারকরা।

পেঁয়াজ কিনতে আসা নাজিম উদ্দিন বলেন, এইতো গুদাম থেকে পেঁয়াজ কিনলাম কম দামে ৫০ টাকা বস্তা হিসেবে। এগুলো নিয়ে গিয়ে বেছে পরিষ্কার করে ভালোগুলো বের করে নিজেরা খাবো বাড়তি পেঁয়াজগুলো বিক্রি করবো। এতে করে বাড়তি লাভ হবে পেটের দায়ে সবকিছুই করতে হবে। তবে যেভাবে পেঁয়াজ পচতিছে তাতে করে মালিকদের তো লোকসান।

পেঁয়াজ কিনতে আসা আনন্দ বর্মণ বলেন, আগে তো পেঁয়াজের দাম বেশি ছিল ২০/২২টাকা কেজি ছিল। এখন দাম কমে গেছে ১৩/১৫টাকা এতে করে পেঁয়াজ কিনতে আমাদের সুবিধা হয়েছে। তবে এখন খারাপ পেঁয়াজগুলো দাম দাম কমের কারণে এখান থেকে আমরা কম দামে কিনে নিয়ে গিয়ে এগুলো পরিষ্কার করে বাছাই করে ভালোগুলো ১০/১২ টাকা কেজি দরে বিক্রি করি।

হিলি স্থলবন্দরের পেঁয়াজ আমদানিকারক শাহরিয়ার আলম বলেন, সরকার কর্তৃক পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী ২৯ মার্চের পরে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ হয়ে যাবে। বন্দর দিয়ে আর কোনো পেঁয়াজ আমদানি হবে না এমন খবরে বন্দর দিয়ে পর্যাপ্ত পরিমাণে পেঁয়াজ আমদানি করা হয়েছে। যা দেশের বাজারে রমজানে বাড়তি চাহিদার তুলনার চেয়ে অনেক বেশি। যার কারণে আমাদের অনেক পেঁয়াজ বিক্রি না হওয়ায় বন্দর থেকে খালাস করে নিজস্ব গুদামে নামিয়ে রাখতে হয়েছে।

এর উপর সরকার নতুন করে ৫ মে পর্যন্ত পেঁয়াজ আমদানির সময়সীমা বৃদ্ধি করেছে।

‘গত কয়েক দিনে পূর্বের আমদানি করা পেঁয়াজ বিক্রি না হওয়ায় এখনো নতুন করে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ রেখেছেন আমদানিকারকরা। পূর্বে এত পরিমাণ আমদানি হয়েছে যে এসব পেঁয়াজ বিক্রি সম্ভব হয়নি এখনো বেশ পরিমাণ পেঁয়াজ আমাদের গুদামে মজুত রয়েছে। গত কয়েক দিন ধরে প্রচণ্ড গরমের কারণে ইতিমধ্যেই মজুতকৃত পেঁয়াজে পচন ধরেছে পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।’

তিনি বলেন, এসব পেঁয়াজ আমাদের বাড়তি দামে ক্রয় করা ছিল কিন্তু এখন এটা কমদামে বিক্রি করতে হচ্ছে এতে করে আমাদের প্রচুর টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে।

হিলি স্থলবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন বলেন, বন্দর দিয়ে মার্চ মাস জুড়েই পেঁয়াজের আমদানি অব্যাহত ছিল। সেসময় গড়ে প্রতিদিন ৩০ থেকে ৪০ ট্রাক পেঁয়াজ আমদানি হতো। সর্বশেষ ২৯ মার্চ বন্দর দিয়ে ৬৩টি ট্রাকে ১ হাজার ৬৯০ টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছিল। এরপর থেকে আজ অবধি বন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ রয়েছে। তবে কি কারণে বন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ এটি ব্যবসায়ীরা বলতে পারবেন এটি আমরা সঠিক জানি না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত