চাঁদা না দেওয়ায় হল থেকে রাবি ছাত্রকে নামিয়ে দিল ছাত্রলীগ

আপডেট : ০৭ এপ্রিল ২০২২, ০৮:২৭ পিএম

ছাত্রলীগকে দাবিকৃত চাঁদা না দেওয়ায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) মাদার বখ্শ হলের এক আবাসিক শিক্ষার্থীকে সিট থেকে নামিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

গতকাল বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে হলের ৩৩৩ নম্বর কক্ষে এই ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী এখলাস উদ্দিন ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। অভিযুক্তরা হচ্ছেন মাদার বখশ হল ছাত্রলীগের সভাপতি প্রিন্স হামিম রেজা শাফাতের অনুসারী।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী জানান, তিনি সপ্তাহ খানেক পূর্বে মাদার বখ্শ হলের ৩৩৩ নম্বর কক্ষে ওঠেন। এরপর গত ৪ এপ্রিল বিকেলে ২০৮ নম্বর কক্ষে তাকে ডেকে নেন শহীদ হবিবুর রহমান হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান অপু। পরবর্তীতে তার কাছে টাকা দাবি করেন এবং বিষয়টি কাউকে জানাতে নিষেধ করেন। টাকা দিতে অস্বীকার করায় পরবর্তীতে গতকাল বুধবার রাতে হল ছাত্রলীগের সভাপতি প্রিন্সের অনুসারী সোহেল রানাসহ ছাত্রলীগের ১৫ জন নেতা কর্মী রুমে এসে তাকে সিট থেকে নামিয়ে অন্য একটি ছেলেকে বেডে তুলে দেন।

এখলাস উদ্দীন বলেন, অপু ভাই আমাকে বিভিন্ন রুমের (ডাবল, ফোর এবং সিঙ্গেল) সিটের মূল্য জানান। সিট খালি হলে টাকা দেখেন উল্লেখ করে তিনি আমার কাছে দ্রুত টাকা দাবি করেন। আর বিষয়টি সাংবাদিকদের জানাতে বারণ করেন। জানালে সমস্যা হবে বলেও হুমকি দেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে ছাত্রলীগের কয়েকজন এসে আমাকে নামিয়ে দিয়ে আমার সিটে অন্য একটি ছেলেকে তুলে দিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, আশিকুর রহমান অপু দীর্ঘদিন মাদার বখ্শ হলে থাকতেন। ওই সময়ও তার বিরুদ্ধে সিট বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছিল। এছাড়া তিনি মাদার বখ্শ হলের সভাপতি প্রিন্স হামিম রেজা শারাফাতের বেশ ঘনিষ্ঠ বলে ক্যাম্পাসে প্রচার আছে। সম্প্রতি ঘোষিত ছাত্রলীগের হল কমিটিতে তিনি শহীদ হবিবুর রহমান হলের সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন। বর্তমানে তিনি হবিবুর রহমান হলে থাকেন।

অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, আমি ১৫ দিন থেকে ওই হলে থাকি না। এ ধরনের অভিযোগ বানোয়াট, মিথ্যা। একটি চক্র আমাকে জড়িয়ে এ ধরনের নিউজ করাচ্ছেন।

মাদার বখ্শ হলের সভাপতি প্রিন্স হামিম রেজা শারাফাত বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমরা হল প্রাধ্যক্ষসহ ওই শিক্ষার্থী সঙ্গে বসে সমাধান করেছি।

সার্বিক বিষয়ে মাদার বখ্শ হলের প্রাধ্যক্ষ শামীম হোসাইনকে একাধিকবার ফোন করেও পাওয়া যায়নি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত