বগুড়ার আদমদীঘিতে ধর্ষণের শিকার এক নারীর মাথা ন্যাড়া করে দিয়ে গ্রামে ঘোরানোর অভিযোগে তার স্বামীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার রফিকুল ইসলামকে (৪৪) শুক্রবার সন্ধ্যায় আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
রফিকুল ইসলাম কৃষি জমি চাষের পাওয়ার ট্রিলার চালিয়ে জীবীকা নির্বাহ করতেন।
জানা যায়, শুক্রবার দুপুরে রফিকুল তার পঞ্চম স্ত্রীকে চরিত্রহীনা অপবাদ দিয়ে নির্যাতন করেন। এক পর্যায়ে মাথার চুল কেটে ন্যাড়া করে গ্রামে ঘুরিয়ে লোকজনকে দেখান। এই ঘটনায় নির্যাতিতা ওই নারী বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
এলাকাবাসী জানান, পাওয়ার টিলার চালক রফিকুলে একের পর এক বিয়ে করা এবং তালাক দেওয়া নেশা। দুই বছর আগে চাটখইর গ্রামের স্বামী পরিত্যাক্তা এ নারীকে রফিকুল ৫ম বিয়ে করেন। রফিকুল ওই নারীর ৩য় স্বামী।
অভিযোগে জানা যায়, গত ৬ এপ্রিল ওই নারী একই এলাকার দুলু ফকির ও হান্নান ফকির নামে দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে আদমদীঘি থানায় ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। পুলিশ মামলার পর ওই দুই ভাইকে গ্রেপ্তার করে। এ ঘটনার পর রফিকুল তার স্ত্রীকে চরিত্রহীনা অপবাদ দিয়ে শুক্রবার দুপুরে মারধর করে মাথার চুল কেটে (ন্যাড়া করে) দেয়। এরপর স্ত্রীকে শাস্তি দেয়া হয়েছে মর্মে গ্রামে ঘুরিয়ে লোকজনকে দেখানো হয়।
খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক আদমদীঘি থানা পুলিশ রফিকুল ইসলামকে আটক এবং মাথা ন্যাড়া করে দেয়া নারীকে উদ্ধার করে থানা হেফাজতে নেন। পরে ওই নারী তার স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
আদমদীঘি থানার পুলিশ পরিদর্শক আলমাস আলী জানান, ধর্ষণের ঘটনাটি কয়েকদিন আগের। গ্রামে সালিশ বৈঠক করে সেদিনের ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছিল। এ খবর জানতে পেরে পুলিশ মামলা রুজু করে আসামিদের গ্রেপ্তার করে। এর জের ধরে রফিকুল তার স্ত্রীকে অপবাদ দিয়ে মাথা ন্যাড়া করে দেয়। এ ঘটনায় রফিকুলকে গ্রেপ্তার করে শুক্রবার সন্ধ্যায় জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
