একদিনের মধ্যে মত পাল্টে হৃদয় মণ্ডলের মুক্তি চাইলেন ঢাবি শিক্ষক নেতা

আপডেট : ০৯ এপ্রিল ২০২২, ১১:৪২ এএম

সমালোচনার মুখে মুন্সীগঞ্জের এক স্কুলের বিজ্ঞানশিক্ষক হৃদয় চন্দ্র মণ্ডলকে নিয়ে দেয়া মতামত একদিনের মধ্যে পাল্টে ফেলেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক নিজামুল হক ভুঁইয়া। এবার তিনি বিজ্ঞানশিক্ষক হৃদয় মণ্ডলকে ফাঁসানো হয়েছে মন্তব্য করে তার মুক্তির দাবি করেছেন।

কথিত ধর্ম অবমাননার অভিযোগে কারাগারে পাঠানো মুন্সীগঞ্জের বিনোদপুর রামকুমার উচ্চ বিদ্যালয়ের গণিত ও বিজ্ঞানশিক্ষক হৃদয় চন্দ্র মণ্ডলের বিষয়ে বৃহস্পতিবার একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালকে অধ্যাপক নিজামুল হক প্রতিক্রিয়া দেন।

সেখানে তিনি বলেন, ‘আমাদের ৯০ শতাংশ মানুষ যেহেতু মুসলিম, সেখানে ধর্ম নিয়ে কন্ট্রাডিকটরি বক্তব্যটা দেওয়া কোনোভাবেই সমীচীন নয় বলে আমি মনে করি।’

তার এমন বক্তব্যে সোশাল মিডিয়ায় সমালোচনার জন্ম দেয়। তার সহকর্মীরাও এ বিষয়ে অসেন্তোষ প্রকাশ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পাশাপাশি হৃদয় মণ্ডলের মুক্তির দাবিতে শুক্রবার দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরাসহ বিভিন্ন সংগঠন সোচ্চার হয়ে ওঠে।

এ পরিস্থিতিতে অধ্যাপক নিজামুল হক আগের দিনের মত পাল্টে ওই নিউজ পোর্টালকে বলেন, ‘প্রথমে তিনি বিষয়টা বুঝতে পারেননি। তবে বিজ্ঞানশিক্ষক হৃদয় মণ্ডলের বক্তব্যটা দেখার পর বুঝতে পেরেছেন তাকে ফাঁসানো হয়েছে।’

বিজ্ঞানশিক্ষক হৃদয় মণ্ডলকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদ ও মুক্তির দাবিতে শুক্রবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতিও এক বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়।

সমিতির সভাপতি অধ্যাপক রহমতুল্লাহ ও সাধারণ সম্পদক অধ্যাপক নিজামুল হক ভুঁইয়া বলছেন, ‘শিক্ষকের শিক্ষাদানের স্বাধীনতাকে অক্ষুণ্ণ রাখতে হবে। অন্যথায় শিক্ষকের পক্ষে স্বাধীনভাবে শ্রেণিশিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়বে।’

বিবৃতিতে বলা হয়, পরিকল্পিতভাবে ধর্ম অবমাননার দায়ে ফাঁসিয়ে মুন্সীগঞ্জ সদরের বিনোদপুর রামকুমার উচ্চ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞানশিক্ষক হৃদয় চন্দ্র মণ্ডলকে গ্রেপ্তারের খবরে আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক অপশক্তিকে খুঁজে বের করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছি।

বিবৃতিতে বলা হয়, বিজ্ঞানের ক্লাসে শিক্ষক হৃদয় মণ্ডলকে অপ্রাসঙ্গিকভাবে ধর্মের বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়। শিক্ষক হৃদয় চন্দ্র মণ্ডল ধর্মকে ‘বিশ্বাস’ আর বিজ্ঞানকে ‘প্রমাণভিত্তিক জ্ঞান’ হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। শিক্ষকের এ বক্তব্য গোপনে রেকর্ড করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হয়। ধারণা করা যায়, কোনো মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এ কাজে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করেছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, হৃদয় চন্দ্র মণ্ডল একুশ বছর ধরে ওই বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন। এ ধরনের প্রবীণ শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের একজন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর মাধ্যমে মামলা করানো হয়, যা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে প্রতীয়মান হয়। এ ছাড়া তড়িঘড়ি করে জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা করাটাও রহস্যজনক।

এতে বলা হয়, গ্রেপ্তারকৃত শিক্ষকের জামিনের শুনানির সময় ‘এখন জামিন দিলে জীবনের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়তে পারে’ বলে বাদীপক্ষের আইনজীবী যে বক্তব্য দিয়েছেন, সেটিও উদ্বেগজনক। আর যে কোনো নাগরিকের নিরাপত্তার দায়িত্বও রাষ্ট্রের।

শিক্ষক সমিতির বিবৃতিতে বলা হয়, সাম্প্রতিককালে ধর্ম নিয়ে একশ্রেণির মানুষের তৎপরতাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। রাষ্ট্রের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করে ঘোলা জলে মাছ শিকারের জন্য সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করতে একটি মহল অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। এ ঘটনা তারই অংশ বলে আমরা মনে করি।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত