গরীবের ডাক্তার হতে চান সাগর, মেডিকেলে পড়ার খরচ নিয়ে দুশ্চিন্তা

আপডেট : ১০ এপ্রিল ২০২২, ১২:২০ পিএম

অনেক কষ্ট করে এ পর্যন্ত পড়ালেখার খরচ জুগিয়েছেন সিএনজি চালক বাবা। কিন্তু ছেলে মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েও বাবার চোখেমুখে হতাশা।

টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার কাঞ্চনপুর ইউনিয়নের আদাজান পশ্চিম পাড়া গ্রামের সিএনজি চালক আব্দুল আউয়াল মিয়া ও গৃহিনী হেনা আক্তারের ছেলে সাগর মিয়া।

শত অর্থ কষ্টের মাঝেও থেমে ছিল না ছেলেটির পড়াশোনা। এবার এমবিবিএস প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে মেধা তালিকায় ১৫৮৯তম স্থান পেয়ে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন তিনি।

সাগর মিয়া শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। পরীক্ষায় ১০০ নম্বরের মধ্যে তিনি ৭৭.৫ নম্বর পেয়েছেন।

এর আগে তিনি পিএসসি পরীক্ষায় জিপিএ- ৫, বাসাইল গোবিন্দ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জেএসসি পরীক্ষায় জিপিএ- ৫ ও ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি এবং এসএসসিতে জিপিএ- ৫ ও নলুয়া বিএফ শাহীন কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ- ৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নুন আনতেই যেন পান্তা ফুরায়- অবস্থা পরিবারটির। মৌলিক চাহিদা মেটাতেই হিমশিম খাচ্ছেন একমাত্র উপার্জনক্ষম সাগরের বাবা সিএনজি চালক আব্দুল আউয়াল মিয়া। পড়াশোনা খরচ চালাতে অনেক কষ্ট হলেও বন্ধ হতে দেয়টি ছেলের পড়ালেখা।

পরিবারের দূরাবস্থা দেখে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও সাগরকে অর্ধেক বেতনে পড়ার সুযোগ করে দিয়েছিলেন। বাবার পাশাপাশি মা করেছেন গরু-ছাগল পালন। তাদের পরিবারের চার সন্তানের মধ্যে সাগরই সবার বড়।

প্রতিবেশী শিপন মিয়া ও জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, সাগরের অদম্য ইচ্ছা শক্তিই তাকে এ সফলতা এনে দিয়েছে। শিক্ষা জীবনজুড়েই সে আর্থিক অনটনের মধ্য দিয়ে লেখাপড়া চালিয়ে গেছে। মেধার জোরেই সে তার সব বাধা জয় করে মেডিকেলে পড়ার সুযোগ পেয়েছে।

সাগরের বাবা আব্দুল আউয়াল মিয়া ও মা হেনা আক্তার বলেন, আমাদের বাড়িতে ভাঙ্গা টিনের ঘর ছাড়া আর কিছু নেই। এ ঘরটিতেই পরিবারের সবাই থাকি। সাগর ও তিন মেয়ের খরচ জোগাতে হিমশিম খেতে হয়। এরই মধ্যে অনেক কষ্ট করে না খেয়ে সন্তানের পড়ার খরচ চালিয়েছি। কোনো সময় ভালো একটা পোশাকও কিনে দিতে পারিনি।

এ বিষয়ে সাগর বলেন, ‘মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ পাওয়ার ক্ষেত্রে আমার মা ও বাবার অবদান সবচেয়ে বেশি। আমার বাবা সিএনজি চালিয়ে আমার পড়াশোনার জোগান দিয়েছেন। সাথে আমার মা রাতদিন পরিশ্রম করেছেন। গরুর ঘাস কেটেছেন, গরু পালন করেছেন। সেই গরুর দুধ বিক্রি করে, হাঁস-মুরগির ডিম বিক্রি করে আমার পড়াশোনার খরচ চালাতেন। মা ও বাবা আমার জন্য যে পরিশ্রম করেছে সে কথা মনে হলে চোখের পানি ধরে রাখতে পারি না। গরীবের যে কত কষ্ট তা আমি বুঝি, এজন্যই আমি গরীবের ডাক্তার হতে চাই।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত