রাজধানীর উত্তরায় কাভার্ড ভ্যান চাপায় তিনজন নিহতের ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত চালক মো. বশিরকে (২৬) গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
শুক্রবার রাতে ভোলা জেলার লালমোহন থানাধীন বালচুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে একটি ড্রাইভিং লাইসেন্স ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার বশির দুর্ঘঘটনায় সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন বলে র্যাব জানায়।
র্যাব-১ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুলাহ আল মোমেন জানান, গ্রেপ্তার মো. বশিরের ব্যবহৃত ড্রাইভিং লাইসেন্স হালকা যানের (মোটরসাইকেল বা প্রাইভেটকার) জন্য প্রযোজ্য। তার ড্রাইভিং লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হয়েছে ২০২১ সালে। ভারি যানবাহনের লাইসেন্স ছাড়া বশির চার বছর ধরে কাভার্ড ভ্যানটি চালিয়ে আসছিল। কাভার্ড ভ্যানটির মালিক মো. জাকির নামে এক ব্যক্তি। তিনি তেজগাঁও ট্রাকস্ট্যান্ড এলাকার একজন দালাল। বিভিন্ন গাড়ির কাগজ এবং ড্রাইভিং লাইসেন্সের কাজ করিয়ে দেওয়ার জন্য জাইকা দালাল নামে পরিচিত। ঘটনার পর থেকে জাকির ওরফে জাইকা দালাল পলাতক রয়েছে।
র্যাব-১ এর সহকারী পুলিশ সুপার নোমান আহমদ জানান, ১৪ এপ্রিল ভোর ৪টার দিকে এনামুল হক (৪৫), তার ফুফু হনুফা (৪৫) ও ভাই অনিককে (১৮) নিয়ে মোটরসাইকেলে রাজধানীর হাজারীবাগের রায়েরবাজার থেকে উত্তরায় যাচ্ছিলেন।
ভোর ৫টা ২০ মিনিটের দিকে তারা উত্তরা ৩ নম্বর সেক্টরের রবীন্দ্র সরণির আমির কমপ্লেক্সের উত্তর পাশে পৌঁছালে কাভার্ড ভ্যানটি এনামুল হকের বাইকের পেছনে ধাক্কা দেয়। এতে বাইকে থাকা তিনজনই পড়ে যান। তখন কাভার্ড ভ্যানের চাকায় পিষ্ট হয়ে এনামুল হক ও হনুফা ঘটনাস্থলে মারা যান। অনিক গুরুত্বর আহত হয়। পরে তাকে প্রথমে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশু অনিকের মৃত্যু হয়।
খবর পেয়ে র্যাব-১ ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ায়। এর ধারাবাহিকতায় শুক্রবার সন্ধ্যায় ভোলার লালমোহনের বালচুর থেকে কাভার্ডভ্যান চালক বশিরকে আটক করা হয়।
